ইরানের বিরুদ্ধে কোনো হামলায় নিজেদের আকাশসীমা, সমুদ্রসীমা বা ভূখণ্ড ব্যবহার করতে না দেওয়ার যে প্রতিশ্রুতি সৌদি আরব দিয়েছে, তার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে তেহরান। গতকাল বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই কথা জানান সৌদি আরবে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আলিরেজা এনায়েতি। তিনি জানান, রিয়াদের এই অবস্থান দুই দেশের মধ্যকার উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতেও সম্পর্ক স্থিতিশীল রাখতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

যুদ্ধ শুরুর আগে থেকেই রিয়াদ তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার প্রতি সমর্থন জানিয়ে আসছিল। তবে সংঘাত শুরু হওয়ার পর সৌদি আরব বেশ কয়েকবার অভিযোগ করেছে যে, ইরান তাদের ভূখণ্ডে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম বৃহৎ তেল শোধনাগার রাস তানুরা রিফাইনারি এবং রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে ড্রোন হামলার জন্য ইরানকে সরাসরি দায়ী করেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। এসব ঘটনার পাল্টা জবাব দেওয়ার অধিকার রাখে বলেও সতর্ক করেছিল রিয়াদ।
আরও
তবে সৌদির এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন ইরানের রাষ্ট্রদূত আলিরেজা। মার্কিন দূতাবাসে হামলার অভিযোগ স্পষ্টভাবে নাকচ করে দিয়ে এএফপিকে তিনি বলেন, রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসে হামলার সঙ্গে ইরানের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তেহরানের কোনো অপারেশন কমান্ড যদি কোথাও হামলা চালায়, তবে তারা প্রকাশ্যে সেটির দায়ও স্বীকার করে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নিহত হওয়ার পর তেহরানের পাল্টা হামলার জেরে সংঘাত এখন পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন, যাঁদের মধ্যে সাতজনই বেসামরিক নাগরিক। এই সংঘাতের প্রেক্ষাপট টেনে আলিরেজা এনায়েতি বলেন, ইরান নিজে থেকে কোনো আঞ্চলিক যুদ্ধ চালাচ্ছে না। তাঁর ভাষায়, এটি কোনো আঞ্চলিক যুদ্ধ নয় এবং এটি ইরানের যুদ্ধও নয়; বরং এই যুদ্ধ পুরো অঞ্চলের ওপর জোর করে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।












