সৌদি আরবে নির্মাণাধীন একটি ভবন থেকে পড়ে হারুন সিকদার (৪৮) নামের এক প্রবাসী বাংলাদেশির মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। গত সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে স্থানীয় একটি হাসপাতালে টানা ১১ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। নিহত হারুন চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার বরুমচড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের রহমত আলী সিকদারের নতুন বাড়ির মো. নাগু মিয়ার ছেলে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ২ ডিসেম্বর ছুটিতে দেশে এসেছিলেন হারুন। এক মাস পাঁচ দিনের ছুটি কাটানোর পর গত ৭ জানুয়ারি তিনি পুনরায় সৌদি আরবে নিজের কর্মস্থলে ফিরে যান। কিন্তু সেখানে ফেরার মাত্র এক মাসের মাথায়, গত ১২ ফেব্রুয়ারি দুপুরে একটি নির্মাণাধীন ভবনে কাজ করার সময় তিনি ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হন। স্বজনেরা জানিয়েছেন, ওই ভবনের একটি চতুর্মুখী সিঁড়িতে কাজ করার সময় অসাবধানতাবশত তিনি নিচে পড়ে যান। পরে সহকর্মীরা তাঁকে দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে ভর্তি করেন।
ছয় ভাই ও সাত বোনের মধ্যে হারুন ছিলেন মেজ। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রেখে গেছেন। নিহত হারুনের ছোট ভাই মো. সিফাত আক্ষেপ করে জানান, সৌদি আরবে তাঁদের এক ভগ্নিপতি নিহতের সঙ্গেই আছেন। তবে দাপ্তরিক আনুষ্ঠানিকতা শেষে কবে নাগাদ তাঁর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে, সে বিষয়ে পরিবার এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি।
আরও
এদিকে উপার্জনের অন্যতম অবলম্বনকে হারিয়ে পরিবারটিতে এখন শোকের মাতম চলছে। এই মর্মান্তিক মৃত্যুর খবরে পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. মালেক জানান, প্রবাসী হারুনের মৃত্যুর ঘটনাটি শুনে তাঁরা অত্যন্ত মর্মাহত হয়েছেন। শোকসন্তপ্ত পরিবারের সঙ্গে জনপ্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি জানান, নিহতের মরদেহ দেশে আনা ও দাফনসংক্রান্ত যেকোনো প্রয়োজনে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।









