জীবিকার তাগিদে সৌদি আরবে পাড়ি জমানো কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার দুই প্রবাসী পৃথক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার মক্কা এবং রিয়াদ শহরে মর্মান্তিক এই দুটি দুর্ঘটনা ঘটে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিদের এমন আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুর খবরে নিহতদের গ্রামের বাড়িতে এখন চলছে শোকের মাতম, পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
নিহতদের একজন হলেন সাফির উদ্দিন (৫৭)। তিনি কটিয়াদী উপজেলার বনগ্রাম ইউনিয়নের ঘিলাকান্দি গ্রামের মৃত রইছ উদ্দিনের ছেলে। সাফিরের আত্মীয় দিদারুল আলম রাসেল জানান, সংসারের সচ্ছলতা ফেরাতে প্রায় ২০ বছর আগে তিনি সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রিয়াদের একটি মসজিদে ইফতার শেষে বাসায় ফিরছিলেন সাফির। পথে পেছন থেকে দ্রুতগামী একটি লরি তাঁকে ধাক্কা দিলে রাস্তায় লুটিয়ে পড়ে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। পরে তাঁর এক রুমমেট মুঠোফোনে এই দুঃসংবাদটি দেশে জানান। নিহত সাফির উদ্দিনের স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।
এর আগে বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে মক্কা নগরীতে নির্মাণকাজ করার সময় ছাদ থেকে পড়ে প্রাণ হারান হৃদয় মিয়া (২২) নামের আরেক যুবক। তিনি কটিয়াদীর লোহাজুরী ইউনিয়নের পূর্ব বাহেরচর গ্রামের জামাল মিয়ার একমাত্র সন্তান। নিহত হৃদয়ের মামা মনির ফরাজী জানান, মাত্র এক বছর আগে পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে নির্মাণশ্রমিক হিসেবে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন হৃদয়। ঘটনার দিন সকালে একটি পাঁচতলা ভবনের ছাদে রডের কাজ করার সময় অসাবধানতাবশত নিচে পড়ে গিয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি। পরে তাঁর ফুফাতো ভাই বিল্লাহ মিয়া মুঠোফোনে মৃত্যুর খবরটি পরিবারকে নিশ্চিত করেন।
আরও
সৌদি আরবের মাটিতে আপনজনদের এমন করুণ মৃত্যুতে দুই পরিবারেই এখন চলছে শোকের হাহাকার। স্বজনদের কান্নায় গ্রামের পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে। নিহত সাফির উদ্দিন ও হৃদয় মিয়ার মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আকুল আবেদন জানিয়েছেন শোকসন্তপ্ত পরিবার ও এলাকাবাসী।












