সামান্য এক রিয়াল। এই তুচ্ছ বিষয় নিয়ে শুরু হওয়া কথা কাটাকাটি শেষ পর্যন্ত কেড়ে নিয়েছে দুটি প্রাণ, ধ্বংস হয়ে গেছে দুটি পরিবার। ঠিক এমনই এক হৃদয়বিদারক ঘটনার সাক্ষী হয়েছে সৌদি আরব। বিশিষ্ট সৌদি আইনজীবী জিয়াদ আল-শালান সম্প্রতি এই মামলার বিস্তারিত বিবরণ প্রকাশ করেছেন।
ঘটনার সূত্রপাত একটি স্থানীয় বেকারিতে। সাধারণ দিনের মতোই একজন ক্রেতা রুটি কিনতে এসেছিলেন। তিনি দাবি করেন, কাউন্টারে তিনি এক রিয়াল রেখেছেন। কিন্তু দোকানের কর্মী জানান, তিনি কোনো টাকা পাননি। এই সামান্য বিষয়টি নিয়ে উভয়ের মধ্যে বাদানুবাদ শুরু হয়। উপস্থিত কেউ একজন ধারণা করেছিলেন মুদ্রাটি হয়তো ওভেনের আড়ালে পড়ে গেছে, কিন্তু ততক্ষণে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। চুরির অপবাদ ও অবিশ্বাসের জেরে ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়।

আরও
তর্কের একপর্যায়ে দোকানের কর্মী উত্তেজিত হয়ে একটি লোহার রড উঁচিয়ে ক্রেতাকে ভয় দেখান। জনসমক্ষে এই অপমান এবং চুরির অপবাদ মেনে নিতে পারেননি ওই ক্রেতা। ক্ষোভের বশবর্তী হয়ে তিনি হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন এবং কর্মীর হাত থেকে রডটি কেড়ে নিয়ে পাল্টা আঘাত করেন। দুর্ভাগ্যবশত, রাগের মাথায় করা সেই একটি আঘাতেই দোকানের কর্মীর মৃত্যু হয়। নিছক তর্কের জেরে মুহূর্তের মধ্যে একটি জীবন্ত মানুষের নিথর দেহ লুটিয়ে পড়ে বেকারির মেঝেতে।
আদালতে বিচার চলাকালীন অভিযুক্ত ব্যক্তি বারবার দাবি করেন, হত্যা করার কোনো পূর্বপরিকল্পনা বা উদ্দেশ্য তার ছিল না; এটি ছিল কেবল মুহূর্তের উত্তেজনা। কিন্তু যেহেতু ঘটনায় প্রাণঘাতী অস্ত্রের ব্যবহার হয়েছিল এবং ফলাফল ছিল মৃত্যু, তাই সৌদি আরবের আইন অনুযায়ী আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ড বা ‘কিসাস’-এর আদেশ দেন। ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী নিহতের পরিবারকে রক্তপণ বা ‘দিয়াহ’ গ্রহণের মাধ্যমে আসামিকে ক্ষমা করার প্রস্তাব দেওয়া হলেও তারা তা প্রত্যাখ্যান করেন। পরিবারের অনড় অবস্থানের কারণে আদালতের রায় কার্যকর করা হয়।
আইনজীবী জিয়াদ আল-শালান এই ঘটনাটিকে ধৈর্যের চরম পরীক্ষা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ক্রোধ সংবরণের ব্যর্থতা কেবল একজন ব্যক্তির জীবন নয়, বরং একাধিক পরিবারকে আজীবনের জন্য অন্ধকারে ঠেলে দেয়। যে বিরোধ সামান্য মৌনতা বা স্থান ত্যাগের মাধ্যমে মিটিয়ে ফেলা যেত, তা শেষ পর্যন্ত দুটি পরিবারের জন্য বয়ে আনল অপূরণীয় ক্ষতি।











