মানুষের পাসপোর্টের কথা তো অনেক শুনেছেন, কিন্তু এবার উটেরও হতে যাচ্ছে পাসপোর্ট! মরুভূমির জাহাজ হিসেবে পরিচিত উটের জন্য এমনই এক চমকপ্রদ ডিজিটাল উদ্যোগ নিয়েছে সৌদি আরব। মঙ্গলবার দেশটির পরিবেশ, পানি ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী মনসুর আল-মুশাইতি আনুষ্ঠানিকভাবে এই ‘ক্যামেল পাসপোর্ট’ বা ‘উটের পাসপোর্ট’ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। এর মাধ্যমে এখন থেকে প্রতিটি উটের থাকবে নিজস্ব ডিজিটাল পরিচয়, যা সৌদি আরবের উট পালন খাতকে পুরোপুরি বদলে দেবে।

এই বিশেষ পাসপোর্টে কেবল নাম বা পরিচয়ই নয়, বরং থাকবে উটের জন্ম তারিখ, জাত, লিঙ্গ এবং গায়ের রঙের নিখুঁত বর্ণনা। এমনকি উটের সঠিক পরিচয় নিশ্চিত করতে এর ভেতরে একটি মাইক্রোচিপ স্থাপন করা হবে এবং পাসপোর্টে উটের দুই পাশের ছবিও যুক্ত থাকবে। এছাড়া এতে একটি সুনির্দিষ্ট স্বাস্থ্য রেকর্ড বা টিকাদান কার্ড থাকবে, যেখানে পশুচিকিৎসকের সিল ও স্বাক্ষরসহ উটটির সমস্ত চিকিৎসার ইতিহাস লিপিবদ্ধ থাকবে। এর ফলে কোনো উট অসুস্থ কি না বা তাকে সময়মতো টিকা দেওয়া হয়েছে কি না, তা এক নিমিষেই জানা সম্ভব হবে।
আরও
সৌদি সরকারের এই অভিনব পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হলো উট কেনাবেচা এবং মালিকানা পরিবর্তনের প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও আধুনিক করা। সঠিক তথ্য এবং বংশপরিচয় সংরক্ষিত থাকায় উটের বাজারমূল্য নির্ধারণ সহজ হবে এবং নিলামে জালিয়াতির সুযোগ থাকবে না। মরুভূমির ঐতিহ্যের সঙ্গে প্রযুক্তির এই মেলবন্ধন সৌদি আরবের প্রাণিসম্পদ রক্ষায় এক নতুন যুগের সূচনা করল।












