আরও একবার বিশ্বের নজর রিয়াদের দিকে। তেলের রাজত্ব ছাপিয়ে এবার ‘সফট পাওয়ার’-এর লড়াইয়ে বিশ্বকে চমকে দিল সৌদি আরব। ২০২৬ সালের গ্লোবাল সফট পাওয়ার ইনডেক্সে তিন ধাপ এগিয়ে ১৭তম অবস্থানে উঠে এসেছে দেশটি। ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের ‘ভিশন ২০৩০’ যে কেবল কাগুজে পরিকল্পনা নয়, বরং এক প্রভাবশালী বাস্তবতা, তারই প্রমাণ দিল ব্র্যান্ড ফিন্যান্সের এই সর্বশেষ প্রতিবেদন। ৫৫.৯ স্কোর নিয়ে শক্তিশালী দেশগুলোর কাতারে এখন সৌদির দাপুটে অবস্থান।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রিয়াদ সিজন, রেড সি ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল আর ফুটবল মহাতারকাদের ভিড়িয়ে বিশ্ববাসীর দেখার চোখ বদলে দিয়েছে সৌদি আরব। ২০৩০ সালের ওয়ার্ল্ড এক্সপো আর ২০৩৪ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রস্তুতি দেশটিকে নিয়ে গেছে এক অনন্য উচ্চতায়। কেবল কূটনীতি নয়, পর্যটন আর সংস্কৃতিকে হাতিয়ার করে পশ্চিমা আধিপত্যের দেয়াল ভাঙছে মরুভূমির এই দেশ। এই সূচকে বরাবরের মতো যুক্তরাষ্ট্র শীর্ষে থাকলেও তাদের ঘাড়ে নিশ্বাস ফেলছে চীন। তবে বড় চমক দেখিয়েছে সূর্যোদয়ের দেশ জাপান; যুক্তরাজ্যকে পেছনে ফেলে তারা এখন বিশ্বের তিন নম্বর সফট পাওয়ার।
মধ্যপ্রাচ্যের জয়গান এখানেই শেষ নয়। প্রভাবশালী দেশগুলোর তালিকায় সংযুক্ত আরব আমিরাত ১০ম স্থান ধরে রেখে আরব বিশ্বের নেতৃত্ব দিচ্ছে, আর কাতারও দুই ধাপ এগিয়ে জায়গা করে নিয়েছে শীর্ষ ২০-এ। বিশ্লেষকদের মতে, পেশিশক্তি কিংবা অস্ত্রের ঝনঝনানি নয়, বরং শিক্ষা, বিজ্ঞান আর সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য দিয়ে বিশ্বজয়ের যে নেশায় মেতেছে সৌদি আরব, তা আগামী দিনে পাল্টে দিতে পারে বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতির পুরো সমীকরণ। তেলের খনি থেকে বেরিয়ে এসে আধুনিক বিশ্বের এক অদম্য শক্তি হিসেবে রিয়াদের এই উত্থান এখন টক অফ দ্য ওয়ার্ল্ড।











