সৌদি আরব তেলনির্ভর অর্থনীতি থেকে সরে এসে খনিজ সম্পদভিত্তিক নতুন কৌশলের দিকে জোর দিচ্ছে। রিয়াদের দাবি, দেশটির মরুভূমির গভীরে প্রায় ২ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলার মূল্যের খনিজ সম্পদ রয়েছে—যেখানে সোনা, তামা ও লিথিয়ামের পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ ‘রেয়ার আর্থ’সহ বিভিন্ন বিরল উপাদানের উপস্থিতির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এসব খনিজ বৈদ্যুতিক গাড়ি, উইন্ড টারবাইন ও উন্নত কম্পিউটিং/এআই চিপ তৈরির কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয় বলে সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষণে বলা হয়েছে।
এই সম্ভাব্য খনিজ ভাণ্ডার কাজে লাগাতে আগামী এক দশকে প্রায় ১১০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ—এমন তথ্য আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক বাজারে বিরল খনিজের উত্তোলন ও শোধনাগারে চীনের প্রভাব বড় হওয়ায় পশ্চিমা দেশগুলোর দীর্ঘদিনের উদ্বেগ রয়েছে; সৌদির এ উদ্যোগ বিকল্প সরবরাহ ব্যবস্থার সুযোগ তৈরি করতে পারে।
এ প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবে বিরল খনিজ শোধনাগার (রিফাইনারি) স্থাপনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়–সমর্থিত উদ্যোগসহ একাধিক যৌথ প্রকল্পের খবরও প্রকাশিত হয়েছে। এসব প্রকল্পের লক্ষ্য হিসেবে চীনের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নতুন প্রসেসিং সক্ষমতা গড়ে তোলার বিষয়টি সামনে এসেছে।
আরও
তবে খনি উন্নয়ন ও খনিজ প্রক্রিয়াজাতকরণ দীর্ঘমেয়াদি ও ব্যয়বহুল উদ্যোগ—সম্পূর্ণ অবকাঠামো দাঁড়াতে বহু বছর সময় লাগতে পারে বলে বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ সতর্ক করছে। একই সঙ্গে পরিবেশগত ঝুঁকি, পানি-সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে বলেও বিশ্লেষণে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
সৌদি কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, ডিজিটাল ডেটাবেইস ও ভূতাত্ত্বিক জরিপ জোরদার করে খনিজ খাতকে অর্থনীতির নতুন ভিত্তি হিসেবে দাঁড় করানোই তাদের লক্ষ্য। পর্যবেক্ষকদের মতে, উদ্যোগটি সফল হলে এটি কেবল সৌদির ‘ভিশন’ভিত্তিক অর্থনৈতিক রূপান্তর নয়—বিশ্বের ক্রিটিক্যাল মিনারেলস সরবরাহ শৃঙ্খলও নতুনভাবে সাজিয়ে দেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।












