২০২৬ সালে সৌদি আরবে বসবাসরত প্রবাসীদের জন্য জরুরি প্রয়োজনে টাকা ধার নেওয়া বা পার্সোনাল লোন পাওয়ার প্রক্রিয়া এখন আগের চেয়ে অনেক সহজ ও আধুনিক। বিদেশে কাজের ফাঁকে অনেক সময় হুটহাট বড় অংকের টাকার দরকার পড়ে-হোক সেটা চিকিৎসার জন্য, কিংবা পরিবারের জরুরি প্রয়োজনে। এসব পরিস্থিতি সামাল দিতে সৌদি আরবের বড় বড় ব্যাংকগুলোর পাশাপাশি বেশ কিছু ডিজিটাল অ্যাপ এখন প্রবাসীদের পাশে দাঁড়াচ্ছে। আল রাজি ব্যাংক, সৌদি ন্যাশনাল ব্যাংক (SNB) বা রিয়াদ ব্যাংকের মতো বড় প্রতিষ্ঠানগুলো প্রবাসীদের দীর্ঘমেয়াদী লোন দিচ্ছে, যা সরাসরি শরিয়াহ সম্মত পদ্ধতিতে পরিচালিত হয়। এই ব্যাংকগুলো থেকে লোন পেতে হলে সাধারণত ৫ থেকে ৭ হাজার রিয়াল মাসিক বেতন এবং বৈধ ইকামার প্রয়োজন হয়, সেই সাথে বেতন সরাসরি ওই ব্যাংকে জমা হওয়া বা ‘স্যালারি ট্রান্সফার’ করা বাধ্যতামূলক।
তবে যাদের খুব দ্রুত অল্প কিছু টাকার প্রয়োজন এবং ব্যাংকের ঝামেলায় যেতে চাচ্ছেন না, তাদের জন্য ‘তামাম’, ‘কুয়ারা’ কিংবা ‘সুলফাহ’-এর মতো অ্যাপগুলো দারুণ সমাধান। এই অ্যাপগুলোর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, এখানে কোনো গ্যারান্টার বা স্যালারি ট্রান্সফারের প্রয়োজন পড়ে না এবং খুব অল্প সময়েই টাকা পাওয়া যায়।
তবে মনে রাখা ভালো, ব্যাংক লোনের তুলনায় এসব অ্যাপের বার্ষিক চার্জ বা এপিআর একটু বেশি হতে পারে। সৌদি আরবের পুরো ব্যাংকিং ব্যবস্থা এখন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ওপর দাঁড়িয়ে। তাই নাফাস এবং আবশির অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ঘরে বসেই নিজের পরিচয় যাচাই করে লোনের আবেদন করা সম্ভব হচ্ছে। লোন অনুমোদনের ক্ষেত্রে ‘সিয়ামা’ (SIMAH) বা ক্রেডিট স্কোর খুবই গুরুত্বপূর্ণ, তাই সময়মতো ইউটিলিটি বিল বা কিস্তি পরিশোধ করা জরুরি।
আরও
সবচেয়ে আশ্বস্ত করার মতো বিষয় হলো, এই পুরো প্রক্রিয়াটি সৌদি কেন্দ্রীয় ব্যাংক (SAMA) সরাসরি তদারকি করে। এর ফলে কোনো লোনদাতা প্রতিষ্ঠান চাইলেই অতিরিক্ত ফি বা লুকানো চার্জ নিতে পারে না। প্রবাসীদের জন্য লোন নেওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো পরামর্শ হলো, তাড়াহুড়ো না করে আগে বিভিন্ন ব্যাংকের অফার যাচাই করা এবং নিজের সাধ্যের মধ্যে কিস্তি রাখা। বর্তমানে রিয়াদ ব্যাংক বা মিম (Meem)-এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলো পেশাজীবী প্রবাসীদের জন্য বিশেষ স্কিম দিচ্ছে, যা কাজে লাগিয়ে নিজের আর্থিক প্রয়োজন অনায়াসেই মেটানো সম্ভব।











