সৌদি আরবে বাণিজ্যিক জালিয়াতি ও বেনামি ব্যবসা দমনে জোরালো অভিযান চালিয়ে গত এক মাসে ১২৩টি সন্দেহভাজন অনিয়ম শনাক্ত করেছে দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। সৌদি গ্যাজেটের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘ন্যাশনাল প্রোগ্রাম টু কমব্যাট কমার্শিয়াল কনসিলমেন্ট’-এর আওতায় সারা দেশে ধারাবাহিক নজরদারি কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে এসব অনিয়ম চিহ্নিত করা হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশব্যাপী মোট ৩ হাজার ৭৮৫টি পরিদর্শন অভিযান চালানোর পর সন্দেহজনক লেনদেন, ভুয়া মালিকানা এবং আইনবহির্ভূত ব্যবসা পরিচালনার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এসব ঘটনায় জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রাথমিক তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে নথি হস্তান্তর করা হয়েছে।
বিশেষ করে গাড়ি মেরামত ও ওয়ার্কশপ, বিলাসপণ্য ও পোশাক ব্যবসা, ঘড়ির দোকান, রেস্তোরাঁ এবং আবাসিক ভবন নির্মাণ খাতকে এই অভিযানের মূল লক্ষ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এসব খাতে বেনামি ব্যবসা ও অবৈধ অংশীদারিত্বের অভিযোগ তুলনামূলকভাবে বেশি থাকায় সেখানে অতিরিক্ত নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
আরও
সৌদি আরবের প্রচলিত কঠোর আইন অনুযায়ী, বাণিজ্যিক জালিয়াতি বা বেনামি ব্যবসার অভিযোগ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং ৫০ লাখ সৌদি রিয়াল পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে। একই সঙ্গে অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ বাজেয়াপ্ত করা, সংশ্লিষ্ট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান স্থায়ীভাবে বন্ধ, লাইসেন্স বাতিল এবং জড়িত প্রবাসীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর সুযোগ রয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এসব অপরাধে দোষী প্রমাণিত প্রবাসীদের ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে সৌদি আরবে পুনরায় প্রবেশ ও কাজ করার ওপর নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করা হতে পারে। দেশটির অর্থনৈতিক স্বচ্ছতা ও ন্যায়সঙ্গত ব্যবসা পরিবেশ নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে চলমান থাকবে বলে জানানো হয়েছে।











