ইয়েমেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণ বিস্তার রোধে ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করতে যাচ্ছে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোট। জোটের তথ্য অনুযায়ী, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হাজরামাউত প্রদেশের মুকাল্লা বন্দর এবং পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে এই অভিযান পরিচালিত হবে। মঙ্গলবার সৌদি রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এসপিএ জানিয়েছে, চলমান অস্থিরতা পরিস্থিতিতে বেসামরিক নাগরিকদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।
জোট বলেছে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সংযুক্ত আরব আমিরাত–সমর্থিত ‘সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল’ (এসটিসি) দক্ষিণ ইয়েমেনের ক্ষমতার ভারসাম্য নাটকীয়ভাবে পাল্টে দিয়েছে। তারা এডেনসহ গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনীকে হটিয়ে হাজরামাউত ও আল-মাহরার মতো অঞ্চল দখলে নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা চাইতে ইয়েমেন প্রেসিডেনশিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের প্রধান রাশাদ আল-আলিমি জরুরি ভিত্তিতে সৌদি জোটের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। তাঁর অভিযোগ, এসটিসি ওই অঞ্চলে ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘন ও বেসামরিক নাগরিকদের ওপর নির্যাতন চালাচ্ছে।

আরও
এর আগে গত সপ্তাহেই সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট সতর্কবার্তা দিয়ে জানিয়েছিল, হাজরামাউত অঞ্চলে এসটিসির উসকানি বরদাশত করা হবে না এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বৈধ সরকারকে রক্ষায় জোট কঠোর পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। মুকাল্লায় ঘোষিত এই অভিযান তাদের সেই অবস্থানকে দৃঢ়ভাবে বাস্তবায়িত করছে বলে পর্যবেক্ষকদের মত।
দীর্ঘদিন ধরে ইয়েমেনের সংঘাত জটিল ত্রিমুখী কেন্দ্রবিন্দুতে আবর্তিত হচ্ছে—সরকারি বাহিনী, হুতি গোষ্ঠী এবং দক্ষিণাঞ্চলের বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তির দ্বন্দ্বে শান্তি প্রক্রিয়া বারবার ব্যাহত হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ভীষণভাবে বিপর্যস্ত হয়েছে এবং মানবিক পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে উঠেছে।
জোট জানিয়েছে, বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে অভিযান পরিচালিত হবে। তবে হাজরামাউতে এসটিসির শক্ত অবস্থান এবং সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সংঘাত আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে বলে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের আশঙ্কা।










