সৌদি আরবে চলতি শীত মৌসুমে তাপমাত্রা, বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টির মিলিত প্রভাবে এক অভূতপূর্ব আবহাওয়াগত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। দেশটির ন্যাশনাল সেন্টার ফর মেটিওরোলজি (এনসিএম) জানায়, শীতকালে সৌদি আরবে এ পর্যন্ত সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছিল মাইনাস ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা নথিভুক্ত হয় ২০০৮ সালের ১৬ জানুয়ারি। ১৯৮৫ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত শীত মৌসুমের তাপমাত্রা বিশ্লেষণ করে প্রতিষ্ঠানটি এক দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা প্রকাশ করেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আল-জউফ অঞ্চলের কুরাইয়্যাত শহরে ২০০৮ সালের জানুয়ারিতে তাপমাত্রা নেমেছিল মাইনাস ৯ ডিগ্রিতে। নর্দার্ন বর্ডারস অঞ্চলের তুরাইফে একাধিকবার মাইনাস ৮ ডিগ্রি এবং আরারে মাইনাস ৬.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড হয়েছে। রিয়াদ, বুরাইদাহ, তাবুক, আল-আহসা, তায়েফসহ বিভিন্ন শহরে শূন্যের নিচে তাপমাত্রার ঘটনা নিয়মিতভাবে নথিভুক্ত হয়েছে। এনসিএম জানায়, ২০০৮ সাল ছিল সৌদি আরবের অন্যতম শীতলতম বছর, যখন দেশের বহু অঞ্চলে তাপমাত্রা ঐতিহাসিকভাবে হ্রাস পায়।
আরও
এনসিএম প্রকাশিত তালিকায় শীতকালে সর্বাধিক তুষারপাত বা ফ্রস্ট ডে পাওয়া শহরগুলোর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে তুরাইফ, যেখানে ৭২০টি ফ্রস্ট ডে রেকর্ড হয়েছে। এরপর রয়েছে কুরাইয়্যাত (৫৮৮ দিন), হাইল (৩৩৯ দিন), আরার (২৭৭ দিন) এবং রাফহা (১৯৭ দিন)। গবেষণা অনুসারে, এসব তথ্য সৌদি আরবের দীর্ঘমেয়াদি জলবায়ুর পরিবর্তন ও পরিবেশগত প্রবণতা বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এদিকে সাম্প্রতিক আবহাওয়া পূর্বাভাসে এনসিএম জানিয়েছে, জিজান, আসির, আল-বাহা, মক্কা, রিয়াদ, কাসিম, পূর্বাঞ্চল এবং নর্দার্ন বর্ডারসসহ বিভিন্ন অঞ্চলে বজ্রঝড়, শিলাবৃষ্টি ও দমকা হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মদিনা ও হাইল অঞ্চলের কিছু এলাকায় ঘন কুয়াশা দেখা দিতে পারে। লাল সাগর এবং আরব উপসাগরে বাতাসের গতি বাড়তে পারে, ঢেউয়ের উচ্চতাও মাঝারি থাকবে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়।
অন্যদিকে, উত্তর সীমান্ত অঞ্চলে এ শীতকাল পরিবেশভিত্তিক পর্যটনকে নতুন প্রাণ ফিরিয়ে এনেছে। বৃষ্টি ও ঠান্ডায় উপত্যকা ও সমভূমি সবুজ হয়ে ওঠায় হাজারো পর্যটক হাইকিং, ক্যাম্পিংসহ নানা কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে ভিড় করছেন। তবে কর্তৃপক্ষ আবহাওয়ার পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি এড়াতে সতর্কতা এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।
সূত্র: গালফ নিউজ











