ইয়েমেনে কয়েক বছর তুলনামূলক শান্ত থাকার পর দক্ষিণাঞ্চলীয় হাদরামাউত প্রদেশে নতুন করে সহিংসতা দেখা দিয়েছে। দেশটির বিচ্ছিন্নতাবাদী অবস্থানে সৌদি আরবের বিমান হামলার পর আবারও উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। শুক্রবার ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, রিয়াদ-নেতৃত্বাধীন বাহিনী হাদরামাউতের ওয়াদি নাহব এলাকায় লক্ষ্যভেদী হামলা চালিয়েছে, যা সাম্প্রতিক সময়ে দেশটিতে সৌদির সবচেয়ে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিচ্ছিন্নতাবাদী গণমাধ্যম অ্যাডেন ইন্ডিপেনডেন্টের তথ্য অনুযায়ী, সৌদি বিমান বাহিনী হাদরামি এলিট ফোর্সেসের ওপর বোমা বর্ষণ করে। সংযুক্ত আরব আমিরাত সমর্থিত সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল (এসটিসি) দাবি করেছে, সৌদি আরব অন্তত দুই দফা হামলা পরিচালনা করেছে। এর আগের দিনই রিয়াদ বিচ্ছিন্নতাবাদীদের দখল করা অঞ্চলসমূহ ফেরত দিতে চূড়ান্ত আলটিমেটাম দেয়।
ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারি জোট হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বিভিন্ন পক্ষকে একত্রিত করলেও সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে সেই জোটে স্পষ্ট বিভাজন দেখা দিয়েছে। চলতি মাসে এসটিসি হাদরামাউত ও মাহরা প্রদেশের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর সৌদি আরব ও আমিরাতের মধ্যে পরোক্ষ সংঘাত আরও প্রকট হয়। যদিও উভয় দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান প্রদর্শন করছে, কিন্তু ইয়েমেনের মাঠ পর্যায়ে তারা ভিন্ন গোষ্ঠীকে সমর্থন দিচ্ছে।
আরও
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এরই মধ্যে সতর্ক করেছেন যে, হাদরামাউতে এসটিসির অগ্রযাত্রা দেশটিকে আবারও পূর্ণমাত্রায় যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে। ২০১৪ সাল থেকে চলমান সংঘাত ইতোমধ্যে লাখো মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে এবং ব্যাপক মানবিক সংকট সৃষ্টি করেছে।
২০২২ সালের যুদ্ধবিরতির পর ইয়েমেনের পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হলেও সাম্প্রতিক হামলা দেশটিকে নতুন অনিশ্চয়তার মুখে ফেলেছে। সৌদি আরব দাবি করছে, অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতেই এই সামরিক অভিযান চালানো হয়েছে। তবে আঞ্চলিক বিশ্লেষকদের মতে, রিয়াদ–আবুধাবির অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য ইয়েমেনের সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলছে।











