সৌদি আরবে শিল্প খাতে কর্মরত প্রবাসীদের জন্য বড় ধরনের স্বস্তির খবর দিয়েছে দেশটির সরকার। প্রধানমন্ত্রী ও যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক মন্ত্রিসভার বৈঠকে লাইসেন্সপ্রাপ্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত বিদেশি শ্রমিকদের ইকামা ও ওয়ার্ক পারমিট ফি মওকুফের সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয়েছে। দীর্ঘ প্রায় সাত থেকে আট বছর পর এমন গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত ছাড় প্রবাসী শ্রমিকদের ওপর আর্থিক চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী, এই সিদ্ধান্ত সৌদি আরবের ‘ভিশন ২০৩০’ বাস্তবায়ন কৌশলের একটি অংশ। শিল্প ও খনিজসম্পদমন্ত্রী বান্দার আল-খোরায়েফ জানান, ফি মওকুফের ফলে শিল্পখাতে পরিচালন ব্যয় কমবে, বিনিয়োগ বাড়বে এবং উৎপাদনশীলতা আরও বৃদ্ধি পাবে। তেলনির্ভর অর্থ কাঠামো থেকে বেরিয়ে এসে শিল্পায়ন ও রপ্তানিনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্যকেই এ সিদ্ধান্ত আরও এগিয়ে নেবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ফি মওকুফের ফলে শিল্প মালিকরা অটোমেশন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারে আরও উৎসাহিত হবেন। এতে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো আধুনিকায়নের দিকে দ্রুত অগ্রসর হতে পারবে, যা বৈশ্বিক বাজারে সৌদি পণ্যের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান শক্তিশালী করবে।
আরও
সরকারি নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াবে এবং শিল্পখাতে নতুন বিনিয়োগ প্রবাহ তৈরি করবে। নির্মাণ, স্বাস্থ্যসেবা এবং খনিজ খাতের মতোই এখন শিল্প উৎপাদন খাতেও প্রবাসীদের কর্মসংস্থান ও ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য এটি শুধু আর্থিক স্বস্তিই নয়, বরং সৌদি আরবের পরিবর্তিত শ্রমবাজারে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার একটি ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।










