সৌদি আরব অদূর ভবিষ্যতে অ্যালকোহল বিক্রির জন্য আরও দুইটি বিশেষায়িত স্টোর চালুর পরিকল্পনা করছে। একটি স্টোর স্থাপন করা হবে রাষ্ট্রীয় তেল জায়ান্ট আরামকোর ধাহরান কম্পাউন্ডে, যেখানে শুধুমাত্র অমুসলিম বিদেশি কর্মীরা প্রবেশাধিকার পাবেন। অন্যটি খোলা হবে জেদ্দায়, কনস্যুলেট–সংলগ্ন এলাকায় কূটনৈতিক কর্মকর্তাদের জন্য। বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত একাধিক সূত্র আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের নেতৃত্বে চলমান সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংস্কারের অংশ হিসেবেই ধাপে ধাপে এ ধরনের বিধিনিষেধ শিথিল করা হচ্ছে।
গত বছর সৌদি রাজধানী রিয়াদে অমুসলিম কূটনীতিকদের জন্য প্রথমবারের মতো একটি অ্যালকোহল স্টোর চালু করা হয়—যা ১৯৫২ সালের নিষেধাজ্ঞার পর বড় ধরনের পরিবর্তন হিসেবে বিবেচিত হয়। কূটনৈতিক মহলে “বুজ বাঙ্কার” নামে পরিচিত সেই দোকানে সম্প্রতি প্রিমিয়াম রেসিডেন্সি–ধারী অমুসলিম গ্রাহকদেরও কেনাকাটার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এই বিশেষ রেসিডেন্সি দেওয়া হয় উচ্চ বিনিয়োগকারী, উদ্যোক্তা ও বিশেষ দক্ষতাসম্পন্ন প্রবাসীদের।
সূত্রগুলো জানিয়েছে, ধাহরানের নতুন স্টোরটি আরামকো পরিচালিত কম্পাউন্ডেই হবে, এবং সেখানকার অমুসলিম কর্মীরাই এর গ্রাহক হিসেবে বিবেচিত হবেন। অন্যদিকে জেদ্দার স্টোরটি কূটনৈতিক উদ্দেশ্যে সীমিত পরিসরে পরিচালিত হবে। দুইটি স্টোর ২০২৬ সালে চালুর সম্ভাবনা থাকলেও এখনো কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি। সৌদি সরকারের গণমাধ্যম দপ্তর বা আরামকো—কেউই এ বিষয়ে মন্তব্য করেনি।
আরও
উপসাগরীয় অঞ্চলের অধিকাংশ দেশেই নির্দিষ্ট বিধিনিষেধের মধ্যে অ্যালকোহল বৈধ হলেও সৌদি আরবে তা এখনও সাধারণ নাগরিকদের জন্য নিষিদ্ধ। তবুও গত কয়েক বছরে দেশটি সিনেমা, কনসার্ট, ক্রীড়া ইভেন্ট, পর্যটন কার্যক্রম এবং নারী–পুরুষের সামাজিক চলাচলে ব্যাপক উদারতা এনেছে। পর্যটক আকর্ষণ এবং অর্থনীতিকে তেলনির্ভরতা থেকে বহুমুখীকরণের কৌশলের অংশ হিসেবেই এই পরিবর্তন এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, অ্যালকোহল নীতিতে শিথিলতা সৌদি আরবে অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়। কিছু আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে ২০৩৪ সালের বিশ্বকাপের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে নির্দিষ্ট পর্যটন এলাকায় অ্যালকোহল চালুর সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করা হলেও সরকার সে দাবি অস্বীকার করেছে। সাম্প্রতিক এক প্রশ্নোত্তরে পর্যটনমন্ত্রী আহমেদ আল–খাতিব জানান, “বিদেশি পর্যটকদের চাহিদা আমরা বুঝি, তবে এই মুহূর্তে কোন পরিবর্তন হয়নি”—যা ভবিষ্যতে নীতি পরিবর্তনের সম্ভাবনার ইঙ্গিত রেখেই যায়।













