পরিবারের ভাগ্য বদলানোর স্বপ্ন নিয়ে সৌদি আরব পাড়ি জমিয়েছিলেন রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার ভ্যানচালকের ছেলে আনামুল হক (২৮)। কিন্তু মাত্র ১৪ দিন পরই সেই স্বপ্ন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়। প্রবাসে গিয়েই সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়ে লাশ হয়ে ফিরলেন তিনি।
রোববার দুপুরে আনামুলের মরদেহ নিজ গ্রাম মাড়িয়া ইউনিয়নের গোয়ালপাড়ায় পৌঁছালে স্বজনেরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। এলাকাজুড়ে নেমে আসে শোকের ছায়া।
পরিবার জানায়, গত ১৭ সেপ্টেম্বর স্থানীয় এক আদম ব্যবসায়ী আতিক হোসেনের মাধ্যমে সৌদি আরবে যান আনামুল হক। প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকসহ বিভিন্ন উৎস থেকে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে তিনি ‘আলী আবদুল্লাহ আল-মাকরামি কম্পানি’-তে চাকরি শুরু করেছিলেন। কিন্তু ১ অক্টোবর সৌদির আফিফ এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় আটজন নিহত হন, যাদের মধ্যে একমাত্র বাংলাদেশি ছিলেন আনামুল। মৃত্যুর পর ১৪ দিন তার মরদেহ আফিফের একটি হাসপাতালের মর্গে ছিল এবং পরে বাংলাদেশ দূতাবাসের সহযোগিতায় দেশে পাঠানো হয়।
আরও
নিহতের বাবা ইয়ানুস আলী আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “ঋণ করে ছেলেকে বিদেশ পাঠাইছিলাম, ভেবেছিলাম সংসারের অভাব ঘুচবে। এখন সে আর ফিরল না, বৌ-বাচ্চা নিয়ে কীভাবে থাকব বুঝতে পারছি না।” স্ত্রী বিলকিস বানু জানান, টানা ১৪ দিন স্বামীর সঙ্গে কোনো যোগাযোগ ছিল না; পরে দূতাবাসে ফোন করে জানতে পারেন তার মৃত্যু হয়েছে।
স্বজনদের অভিযোগ, মৃত্যুর পরও স্থানীয় আদম ব্যবসায়ী আতিক হোসেন তাঁদের কাছ থেকে টাকা দাবি করছেন। এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলেও তার কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।











