সৌদি আরব ক্রীড়া বিশ্বে নিজেদের অবস্থান আরও দৃঢ় করতে ২০৩৪ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত। দেশটি এবার চমকে দিয়েছে “নিওম স্টেডিয়াম” নামে এক আকাশচুম্বী ভেন্যুর ধারণা নিয়ে, যা হবে মাটির ৩৫০ মিটার ওপরে স্থাপিত এক আধুনিক ফুটবল স্টেডিয়াম। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া এই কনসেপ্টকে ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা চলছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই স্টেডিয়ামটি হবে বিশ্বকাপের জন্য নতুনভাবে নির্মিত ১১টি ভেন্যুর একটি, যার সঙ্গে আরও চারটি বিদ্যমান স্টেডিয়াম সংস্কার করা হবে।
ফিফাকে জমা দেওয়া আয়োজক বিড বইয়ে সৌদি আরব জানিয়েছে, “নিওম স্টেডিয়াম” হবে বিশ্বের সবচেয়ে অনন্য ফুটবল অ্যারেনা — আকাশে ভাসমান মাঠ, দৃষ্টিনন্দন দৃশ্য এবং ভবিষ্যতমুখী নকশায় গড়া শহরের অংশ হিসেবে এটি দর্শকদের এক ভিন্ন অভিজ্ঞতা দেবে। এই স্টেডিয়ামটি ৪৬,০০০ দর্শক ধারণ করতে পারবে। তবে এটি সরকারি প্রকল্পের অংশ কিনা তা এখনো স্পষ্ট নয়, কারণ ‘দ্য লাইন’ নামের মূল শহর প্রকল্পের রেন্ডারে এমন স্টেডিয়ামের কোনো চিত্র দেখা যায়নি।
‘দ্য লাইন’ সৌদি আরবের একটি উচ্চাভিলাষী স্মার্ট সিটি প্রকল্প, যার দৈর্ঘ্য ১৭০ কিলোমিটার, প্রস্থ ২০০ মিটার এবং উচ্চতা সর্বোচ্চ ৫০০ মিটার। শহরটিতে থাকবে না কোনো গাড়ি, রাস্তা বা কার্বন নিঃসরণ। নয় মিলিয়ন মানুষের আবাসন লক্ষ্য নিয়ে গড়ে তোলা এই শহর সম্পূর্ণভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিনির্ভর হবে। তবে এর সম্পূর্ণ নির্মাণ শেষ হতে সময় লাগবে ২০৪৫ সাল পর্যন্ত, অর্থাৎ বিশ্বকাপের এক দশক পর এই শহর বাস্তবে রূপ নেবে।
আরও
ফিফা ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সৌদি আরবকে ২০৩৪ সালের বিশ্বকাপের একমাত্র আয়োজক হিসেবে ঘোষণা করে। রোটেশন নীতি অনুসারে শুধুমাত্র এশিয়া ও ওশেনিয়া অঞ্চল থেকে বিড গ্রহণ করা হয়, এবং মাত্র ২৫ দিনের সময়সীমায় সৌদি আরবই একমাত্র দেশ ছিল যারা আগ্রহ প্রকাশ করে। এর ফলে দেশটি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আয়োজক হওয়ার সুযোগ পায়।
এশিয়ায় এটি হবে তৃতীয় বিশ্বকাপ আয়োজকত্ব — ২০০২ সালে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের যৌথ আয়োজন এবং ২০২২ সালে কাতারের পর। ২০৩৪ সালে সৌদি আরবই হবে প্রথম একক আয়োজক দেশ। এখনো প্রায় এক দশক সময় হাতে থাকলেও, দেশটি ইতিমধ্যে নতুন অবকাঠামো উন্নয়ন ও বিশ্বমানের স্টেডিয়াম নির্মাণে প্রস্তুতি নিচ্ছে। এদিকে ফুটবল বিশ্বের দৃষ্টি এখনো ২০২৬ সালের উত্তর আমেরিকার বিশ্বকাপের দিকে, যেখানে ৪৮টি দেশ অংশ নেবে— যা ইতিহাসে সর্ববৃহৎ আয়োজন হতে যাচ্ছে।











