সংস্কারের নেতৃত্ব দিতে ২০১৫ সালে সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ ক্ষমতায় বসিয়ে দেন তাঁর ছেলে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে । ক্ষমতায় বসার মাত্র এক দশকে সৌদি আরবের চেহারা পাল্টে দিয়েছেন সৌদি যুবরাজ।
মেয়েদের খেলাধুলা ও গাড়ি চালানোর অধিকার, সামাজিক ও কর্মসংস্থানে অংশগ্রহণ, পবিত্র নগরির বাহিরে বিনদেশীদের জন্য সিনেমা হল ও কনসার্ট আয়োজন। ২০১৯ সালে নারীদের স্বতন্ত্র ভ্রমণ ও কাজের অনুমতি নীতিমালা চালু হওয়ার পর নারীর শ্রমশক্তি অংশগ্রহণ দ্বিগুণ হয়ে প্রায় ৩৫% হয়েছে। এ ধারা পারিবারিক আয় ও অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
অর্থনৈতিক সংস্কারে সৌদি যুবরাজ ভিশন ২০৩০ বাস্তবায়ন করেন। জ্বালানি ও পরিষেবার মূল্য পুনর্নির্ধারণ, নগদ সহায়তা কর্মসূচি, ভ্যাট বৃদ্ধিসহ দেশের অর্থনৈতিক কাঠামো শক্ত করেছেন। বিনিয়োগ, পর্যটন, হোটেল, বিনোদন ও সৃজনশীল শিল্পে বেসরকারি উদ্যোগ বেড়েছে।
এছাড়া সৌদি আরবের সামরিক সক্ষমতাও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশটি নিজেদের প্রযুক্তিতে তৈরি করেছে ড্রোন প্রতিরোধী আধুনিক ব্যবস্থা। যুবরাজের নির্দেশে সৌদি অ্যারাবিয়ান মিলিটারি ইন্ডাস্ট্রিজ অর্থাৎ “সামি” প্রতিষ্ঠা পায় ২০১৭ সালে। যা ট্যাংক, সাঁজোয়া যান, নজরদারি ও আক্রমণকারী ড্রোন, আধুনিক রাডার, ক্যামেরা সিস্টেম, পিস্তল, রাইফেল, গোলাবারুদ এবং ছোট যুদ্ধজাহাজ তৈরি করছে। নতুন ড্রোন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় রয়েছে ৩ডি রাডার, প্যাসিভ রাডার, থার্মাল ও অপটিক্যাল সেন্সর, শক্তিশালী জ্যামিং ডিভাইস এবং আধুনিক কমান্ড কন্ট্রোল সেন্টার। দেশীয় প্রযুক্তি এখন রপ্তানির দিকে যাচ্ছে, আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের কিছু দেশ ইতোমধ্যে সৌদির সঙ্গে সমঝোতায় এসেছে।
আরও
উচ্চ প্রযুক্তির নগর নেওম, ঐতিহাসিক দিরিয়াহ পুনর্নির্মাণ, লোহিত সাগরের রেড সি প্রজেক্ট এবং কিদ্দিয়া বিনোদন ও ক্রীড়া শহর—এসব প্রকল্প দেশকে নতুন শিল্প ও পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে দাঁড় করাচ্ছেন।
এক দশকে সৌদি আরব হয়ে উঠেছে নিরাপদ, গতিশীল ও প্রতিযোগিতামূলক। যুবরাজের নেতৃত্বে সংস্কারের প্রথম ধাপ সফল, এখন চ্যালেঞ্জ দ্বিতীয় ধাপে—সংস্কারকে এমনভাবে প্রাতিষ্ঠানিক করা যাতে ভবিষ্যতে তা অটল থাকে।











