সূর্যের গায়ে নতুন করে বিশাল আকারের কয়েকটি সানস্পট বা সূর্যকলঙ্ক দেখা দিয়েছে, যা বিজ্ঞানীদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) সৌদি আরবের উত্তরে আরার সীমান্ত অঞ্চলের আকাশে খালি চোখে দৃশ্যমান হয় এই বিশাল দাগগুলো। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এর প্রভাবে পৃথিবীর দিকে সৌরঝড় ধেয়ে আসতে পারে, যা স্যাটেলাইট, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও বিদ্যুৎ গ্রিডে মারাত্মক প্রভাব ফেলতে সক্ষম।
মহাকাশ ও জ্যোতির্বিদ্যা ক্লাবের সদস্য আদনান খলিফা জানিয়েছেন, এই সপ্তাহে পর্যবেক্ষণ করা সানস্পটগুলির নাম দেওয়া হয়েছে ৪১৯৫, ৪১৯৭ ও ৪১৯৮। এগুলো চলতি বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় সূর্যকলঙ্কের অন্তর্ভুক্ত, যার প্রতিটির ব্যাস কয়েক হাজার কিলোমিটার। নিরাপদ সৌর ফিল্টারযুক্ত ছোট টেলিস্কোপের মাধ্যমেও এগুলো দেখা সম্ভব।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, সূর্যকলঙ্কের কারণে সূর্যের নির্দিষ্ট অঞ্চলে শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্র তৈরি হয়। এর ফলে সূর্যের পৃষ্ঠ থেকে তাপীয় গ্যাসের প্রবাহ ব্যাহত হয়ে ঐ অংশ অপেক্ষাকৃত ঠান্ডা ও কালো দেখায়। এই শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্র থেকেই প্রায়ই সৃষ্টি হয় সোলার ফ্লেয়ার বা সৌর অগ্নিশিখা, যা পৃথিবীর দিকে ছুটে এসে সৌরঝড়ে রূপ নিতে পারে।
আরও
সৌরঝড় হলে প্রথমেই ক্ষতিগ্রস্ত হয় পৃথিবীর কক্ষপথে থাকা স্যাটেলাইটগুলো, ফলে ইন্টারনেট ও মোবাইল নেটওয়ার্ক অচল হয়ে যেতে পারে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থাও বিপর্যস্ত হতে পারে, কারণ সৌরঝড়ের সঙ্গে ধেয়ে আসা চৌম্বকীয় তরঙ্গ বিদ্যুৎ গ্রিড ক্ষতিগ্রস্ত করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শক্তিশালী সোলার ফ্লেয়ার হলে রেডিও যোগাযোগে ব্ল্যাকআউট দেখা দিতে পারে, বিশেষ করে উচ্চ অক্ষাংশের অঞ্চলে।
এর আগেও বেশ কয়েকবার পৃথিবীর দিকে শক্তিশালী সৌর অগ্নিশিখা ধেয়ে এসেছিল। চলতি বছরের ১৪ মে সূর্যের এআর৪০৮৭ অঞ্চলে জন্ম নেওয়া এক্স২.৭ শ্রেণির সৌর অগ্নিশিখা ইউরোপ, এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যে উচ্চ ফ্রিকোয়েন্সির রেডিও যোগাযোগে বিপর্যয় ডেকে আনে। মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসা এ বিষয়ে সতর্কতা জারি করেছিল। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, সূর্যের নতুন এই বিশাল সানস্পটগুলো থেকে আসন্ন সময়ে আরও শক্তিশালী সৌরঝড় তৈরি হওয়ার আশঙ্কা প্রবল।











