নেত্রকোনার ছয় যুবক সৌদি আরবে ভালো চাকরির প্রলোভনে ভিটেমাটি বিক্রি করে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানে পৌঁছে তারা স্বপ্নের বদলে চরম হতাশার মুখে পড়েন। এ ঘটনায় এক ভুক্তভোগীর স্ত্রী আদালতে মামলা দায়ের করলে আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
ভুক্তভোগীরা হলেন— পূর্বধলা উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের বিলজোড়া গ্রামের সিরাজুল ইসলাম, আল মামুন, মেহেদী হাসান, নুরুল আমিন এবং জারিয়া ইউনিয়নের মৌদাম চরপাড়া গ্রামের নূরে আলম আকন্দ ও আব্দুল মতিন তালুকদার। তারা স্থানীয় আল আমিন নামের এক দালালের মাধ্যমে সৌদি যান। আল আমিন নিজেকে ‘রেডিয়েন্ট এমপ্লয়মেন্ট’ ও ‘খাদিজা এয়ার ইন্টারন্যাশনাল’-এর প্রতিনিধি পরিচয় দিয়ে মোট ৩০ লাখ টাকার বিনিময়ে তাদের পাঠান।
প্রথমে সিরাজুল ইসলাম এবং পরে বাকিরা এ বছর সৌদি পৌঁছান। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ভালো চাকরি ও দুই বছরের আকামা দেওয়ার কথা থাকলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। বরং দেশে অর্থ পাঠানোর বদলে পরিবার থেকেই তাদের কাছে টাকা পাঠাতে হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, অতিরিক্ত অর্থ না দেওয়ায় কেউ আকামা পাননি, আবার কেউ প্রতারণার শিকার হয়ে দেশে ফিরতে বাধ্য হয়েছেন।
আরও
নূরে আলম আকন্দ জানান, মুদি দোকান বা রেস্টুরেন্টে চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাকে পাঠানো হলেও বাস্তবে কোনো ব্যবস্থা করা হয়নি। পরে নিজ খরচে আকামা করতে গিয়ে দালালের হুমকি ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হন তিনি। অবশেষে পালিয়ে দেশে ফিরতে বাধ্য হন। স্থানীয়রা জানান, ভুক্তভোগী পরিবারগুলো আজ চরম দুর্দশায় দিন কাটাচ্ছেন।
অভিযুক্ত এজেন্ট আল আমিন অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করে এটিকে প্রতিহিংসামূলক মামলা বলে দাবি করেছেন। এজেন্সির স্বত্বাধিকারীও অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন বলে মন্তব্য করেছেন। তবে নেত্রকোনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. হাফিজুল ইসলাম জানান, তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, প্রতারণার শিকার পরিবারগুলো যেন তাদের হারানো অর্থ ফিরে পান এবং এ ধরনের অনিয়ম বন্ধে প্রশাসন কঠোর পদক্ষেপ নেয়।











