সৌদি আরবে কর্মসংস্থানের স্বপ্ন নিয়ে দালালের ফাঁদে পা দিয়ে সর্বস্ব হারানো ময়মনসিংহের মোস্তুফা মিয়া (৩৫) এখন রিয়াদের কিং ফাহাদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন। দীর্ঘদিন অনাহারে থেকে মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ২০ দিন ধরে তিনি অচেতন অবস্থায় আছেন।
মোস্তুফা মিয়া ময়মনসিংহের নান্দাইল পৌরসভার চারআনিপাড়া এলাকার বাসিন্দা। স্থানীয় একটি স-মিলে কাজ করতেন। পারিবারিক জীবন ছিল মোটামুটি স্বচ্ছল। হঠাৎ পরিচিতদের মাধ্যমে সৌদি আরবে আকর্ষণীয় চাকরির প্রলোভনে পড়ে তিনি প্রায় ৬ লাখ টাকা দেন দালালদের হাতে। চলতি বছরের ৩ এপ্রিল তিনি সৌদি আরবে পাড়ি জমান, যেখানে প্রতিশ্রুতি ছিল সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্পে কাজ করে মাসে ৪০ হাজার টাকা আয়ের।
কিন্তু বাস্তবে সেখানে কোনো কাজ পাননি। পরিচিতদের সাহায্যে কখনো এখানে, কখনো ওখানে লুকিয়ে থাকতে হয়েছে, পুলিশের ভয়ে স্থায়ীভাবে কোথাও থাকাও সম্ভব হয়নি। খাদ্য ও চিকিৎসার অভাবে তার শারীরিক অবস্থা চরমভাবে অবনত হয়। পরে স্থানীয় কিছু বাংলাদেশির সহায়তায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
আরও
মোস্তুফার স্ত্রী নাছিমা আকুতি জানিয়ে বলেন, “আমার স্বামীকে মৃত্যুর আগে অন্তত একবার দেখতে চাই।” তিনি জানান, চিকিৎসার খরচ জোগাতে আরও ৩ লাখ টাকা ধার করে পাঠাতে হয়েছে। পরিবারটি এখন চরম আর্থিক সংকটে। মোস্তুফার মা রোকিয়া বেগম বলেন, “মোবাইলে ছেলের অবস্থা সহ্য হয় না, আমার ছেলেকে ফেরত চাই।”
জানা গেছে, মোস্তুফাকে সৌদি পাঠায় ঢাকার নয়া পল্টনের ‘মেসার্স মিনহাজ ওভারসীজ’। প্রতিষ্ঠানটির এক কর্মকর্তা দাবি করেছেন, তারা কেবল প্রসেসিংয়ের কাজ করেছেন। ভিসা দাতা ও দালালদের (লাল মিয়া ও এখলাছ উদ্দিন) সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে। তবে ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, ওই দালালরা বর্তমানে সৌদি আরবেই অবস্থান করছেন এবং তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।
এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করে, মধ্যপ্রাচ্যে কর্মসংস্থানের নামে প্রতারণা এবং অবৈধ চ্যানেলের মাধ্যমে মানুষ পাঠানোর চক্র কতটা ভয়াবহ ও বিপজ্জনক। বিষয়টি দ্রুত তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীর পরিবার ও স্থানীয়রা।











