ইরানের বিরুদ্ধে কূটনৈতিক অবস্থান আরও কঠোর করেছে কাতার। দেশটিতে নিযুক্ত ইরানের নিরাপত্তা ও সামরিক প্রতিনিধিদের (অ্যাটাশে) অবিলম্বে কাতার ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সংবাদমাধ্যম আল–জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, কাতারের প্রধান গ্যাস স্থাপনা রাস লাফানে ইরানের সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ‘ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি’ হওয়ার পরই দোহা এই চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই হামলাকে সরাসরি নিজেদের জাতীয় নিরাপত্তার ওপর আঘাত হিসেবে বিবেচনা করছে কাতার সরকার।
একই সময়ে আঞ্চলিক উত্তেজনার জেরে ইরানের হামলার পর আবুধাবির হাবশান গ্যাস স্থাপনার কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। অন্যদিকে সৌদি আরবও জানিয়েছে, তাদের দুটি গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগারকে হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এই পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে রিয়াদ কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছে, ইরানের প্রতি তাদের যে সামান্যতম আস্থা অবশিষ্ট ছিল, তা এখন সম্পূর্ণ ভেস্তে গেছে।
মূলত ইরানের নৌঘাঁটি ও সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে ইসরায়েলের আকস্মিক হামলার পরই মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করে। ইসরায়েলি ওই হামলার জবাবে পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ইরানও ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থানে আঘাত হানে। দুই বৈরী দেশের এই পাল্টাপাল্টি আক্রমণ এখন পুরো অঞ্চলকে আরও বিস্তৃত ও ভয়াবহ এক সংঘাতের দিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে।
আরও
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, কাতারের এই সর্বশেষ পদক্ষেপ নিছক কোনো কূটনৈতিক বার্তা নয়; বরং এটি উপসাগরীয় অঞ্চলে সম্ভাব্য বৃহত্তর সংঘাতের একটি সুস্পষ্ট পূর্বাভাস বহন করছে। জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে একের পর এক হামলা এবং কূটনৈতিক সম্পর্ক অবনতির এসব ঘটনা বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার জন্যও এক গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।












