সাম্প্রতিক সময়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বোয়িং এয়ারক্রাফটে ত্রুটির কারণে বেশ কয়েকটি যাত্রা বিঘ্নিত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এরমধ্যে মাস্কাটের স্ক্রু কাণ্ড থেকে মাঝ আকাশে উইন্ড-শিল্ড ফাটলের মত ঘটনাও আছে।
এছাড়া উড্ডয়নের আগ মুহূর্তে দরজা ঠিক মতো বন্ধ না হবার ঘটনায় প্রচণ্ড ক্ষেপেছেন প্রবাসীরা। ঘটনাগুলো এমন এক সময়ে ঘটলো যখন বিশ্বজুড়ে এয়ারক্র্যাফট নির্মাতা সংস্থা বোয়িং বিমানের নানা ত্রুটি বিচ্যুতি নিয়ে তোলপাড় চলছে।
তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ার লাইন্সের বহরে থাকা ২১ টি উড়োজাহাজের ১৬টি বোয়িং-এর। প্রশ্ন হচ্ছে, এসব ঘটনায় কি চিন্তিত হবার মতো কোন কারণ আছে? সম্প্রতি বোয়িং-এর ত্রুটি-বিচ্যুতি নিয়ে বিশ্বজুড়ে যে তোলপাড় চলছে সেটির সাথে এসব ঘটনা মেলানোর কোন সুযোগ আছে কি?
এভিয়েশন বিষয়ের একজন পর্যবেক্ষক বলছেন, বোয়িং বিমানের উইন্ড-শিল্ডে ফাটলের বিষয়টি শুধু বাংলাদেশ নয়, গত কিছুদিনে আরো কয়েক জায়গায় বোয়িং বিমানে এ ধরণের ঘটনা ঘটেছে। সেজন্য বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ঘটনাগুলো বিচ্ছিন্ন কোন বিষয় নয়।
আরও
বাংলাদেশের একজন বিমান দুর্ঘটনা বিশেষজ্ঞ বলেন, এসব ত্রুটিতে বিপদের ঝুঁকি যদিও খুব একটা বেশি নয়। তবে যাত্রীবাহী বিমানে ঘন ঘন এ ধরণের ঘটনা মোটেও কাম্য নয়।
সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর মধ্যে গত ২৬শে জুন বিমানের একটি ফ্লাইট হযরত শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের জন্য রানওয়েতে ওঠার পর পাইলট দুটি দরজা আনলকড্ দেখতে পান। পরে উড়োযানটিকে হ্যাঙ্গারে ফিরিয়ে নেয়া হয়। ত্রুটি ঠিক করে পুনরায় ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম হয়ে কাতারের দোহা রুটে রওনা দেয় সেটি। উড়োজাহাজটির মডেল ছিল বোয়িং ৭৩৭-৮০০।
এর আগের দিন চট্টগ্রাম থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবির উদ্দেশে যাত্রা করে ঢাকার বিমানবন্দরে অবতরণ করে একটি ফ্লাইট। উইন্ড-শিল্ডে ফাটল দেখা দেয়ার পর জরুরি অবতরণ করে এটি। বিমানের জনসংযোগ কর্মকর্তা বোসরা ইসলামের সাথে কথা বলে জানা যায়, এই এয়ারক্র্যাফটটিও বোয়িং এর।
গত ১৪ মে ভোর ৪ টার দিকে ঢাকা থেকে টরন্টোর উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইট। এই বিমান তুরস্কের ইস্তাম্বুলে যাত্রা বিরতি করে পুনরায় জ্বালানি নিয়ে টরন্টোর উদ্দেশে যাবার কথা ছিল।
কিন্তু ভারতের লখনৌর আকাশে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে পাইলট দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর পেছনে নির্মাণ ত্রুটির চেয়ে রক্ষণাবেক্ষণের উদাসীনতার সম্ভাবনাই বেশি দেখেন।
তবে, বিমানের জনসংযোগ কর্মকর্তা বলছেন, এসব ক্ষেত্রে দায়িত্বে অবহেলার কোনো সুযোগ নেই। প্রবাস টাইমকে বোসরা ইসলাম বলেন, “যে পরিমাণ বিমানের ক্যাপাসিটি তার বাইরে গিয়ে কাজ করতে হয়। এর মধ্য দিয়েই সামাল দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।












