ওমানে পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হয়ে বাড়ি থেকে পালিয়েছিল দুই কিশোর-কিশোরী। কিন্তু মুক্তির খোঁজে বেরিয়ে তারা পা দেয় আরও ভয়ংকর এক ফাঁদে। ভিডিও গেমসের মাধ্যমে তাদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলেছিল একটি সংঘবদ্ধ সাইবার পাচারকারী চক্র। এরপর অনলাইনে পাতা সেই ফাঁদে পা দিয়ে ভয়াবহ যৌন নির্যাতন ও পাচারের শিকার হয় ১৪ ও ১৬ বছর বয়সী ওই দুই শিশু। ওমানের রাজধানী মাস্কাটে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক এই ঘটনার রায় সম্প্রতি ঘোষণা করেছে সে দেশের একটি আদালত।
জানা যায়, পাঁচ বছর আগে মাস্কাটের ওই দুই শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর রয়্যাল ওমান পুলিশের কাছে একটি জরুরি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। তদন্তে বেরিয়ে আসে, বাবা ও সৎমায়ের লাগাতার শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন সইতে না পেরেই তারা বাড়ি ছেড়েছিল। চরম বিপর্যস্ত ওই দুই শিশু মানসিক শান্তি ও আশ্রয়ের খোঁজে ভিডিও গেমস খেলা শুরু করে। আর সেখানেই ওত পেতে ছিল অপরাধীরা। অভিভাবকের নজরদারির অভাব এবং শিশুদের মানসিক দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে অনলাইনে মিথ্যে নির্ভরতার সম্পর্ক তৈরি করে পাচারকারীরা।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, মাস্কাট থেকে একটি ট্যাক্সি ভাড়া করে নিরাপদ আশ্রয়ের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিল ওই দুই শিশু। কিন্তু গেমসের মাধ্যমে পরিচিত হওয়া প্রধান আসামি ও তার সহযোগীরা তাদের একটি নির্জন কক্ষে আটকে রাখে। সেখানে সাইবার নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে তাদের ওপর ভয়াবহ যৌন নিপীড়ন চালানো হয় এবং ডিজিটাল পাচারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়। তবে শেষ পর্যন্ত পুলিশের টানা অভিযানে উদ্ধার পায় শিশুরা এবং ধরা পড়ে ওই চক্রের সদস্যরা।
আরও
দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে সম্প্রতি এই মামলার রায় ঘোষণা করেছে ওমানের আদালত। শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ এবং অপরাধে প্ররোচনা দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগে দোষীদের কঠোর কারাদণ্ডের পাশাপাশি এক থেকে দশ হাজার ওমানি রিয়াল পর্যন্ত বিশাল অঙ্কের জরিমানা করা হয়েছে।











