যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও দীর্ঘায়িত করার আহ্বান জানিয়েছে ওমান। গতকাল রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আল বুসাইদি এই আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন, সংঘাত শুরুর আগে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সের সঙ্গে আলোচনায় তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে, ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভ্যান্স উভয়েরই যুদ্ধ এড়ানোর বিষয়ে আন্তরিক ও দৃঢ় ইচ্ছা রয়েছে। আল বুসাইদি মনে করেন, এই সংকট সমাধানে হয়তো সব পক্ষকেই বড় ধরনের ছাড় দিতে হবে; কিন্তু ব্যর্থতা ও যুদ্ধের ভয়াবহ পরিণতির তুলনায় সেই ছাড় অতি সামান্য। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার আগে পরমাণু ইস্যুতে এই দুই দেশের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছিল ওমান।
টানা পাঁচ সপ্তাহের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর গত মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের এক অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে সম্মত হয় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। এরই ধারাবাহিকতায় মধ্যপ্রাচ্য সংকটের অবসানে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে দুই দেশের মধ্যে এক ঐতিহাসিক শান্তি বৈঠকের আয়োজন করা হয়। স্থানীয় সময় গত শনিবার শুরু হওয়া প্রায় ২১ ঘণ্টার এই ম্যারাথন আলোচনা গতকাল রোববার সকালে শেষ হয়। তবে বহুল কাঙ্ক্ষিত এই শান্তি আলোচনা কার্যত ব্যর্থ হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে পুনরায় সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার গভীর আশঙ্কা করছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা।
ইসলামাবাদ বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পরপরই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি নিয়ে নতুন করে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশ করা বা সেখান থেকে ছেড়ে আসা সব জাহাজ আটকে দেবে যুক্তরাষ্ট্র। এই নৌপথে পেতে রাখা জলমাইন অপসারণে সামরিক জোট ন্যাটোর সদস্য দেশগুলোও যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
আরও
এদিকে, উদ্ভূত এই পরিস্থিতিতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। ফোনালাপে তিনি জানান, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছানো ইরানের পক্ষে অসম্ভব কিছু নয়। ক্রেমলিনের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই আলাপে পেজেশকিয়ান মূলত ইসলামাবাদ বৈঠকের সার্বিক মূল্যায়ন পুতিনের কাছে তুলে ধরেন এবং পরিস্থিতি শান্ত করতে রাশিয়ার নীতিগত অবস্থানের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এর জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে একটি ন্যায্য ও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় মধ্যস্থতা করার বিষয়ে নিজের প্রস্তুতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এ লক্ষ্যে সব আঞ্চলিক অংশীদারের সঙ্গে মস্কো নিবিড় যোগাযোগ অব্যাহত রাখবে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।




![]kljhgf](https://probashtime.net/wp-content/uploads/2026/04/kljhgf.webp)






