মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি ও চরম নিরাপত্তা সংকটের জেরে ওমান থেকে নিজেদের ‘নন-ইমার্জেন্সি’ বা জরুরি সেবার বাইরে থাকা কর্মীদের দেশে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গতকাল শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এই জরুরি নির্দেশনার কথা জানানো হয়। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
দূতাবাসকর্মীদের ফিরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি মার্কিন নাগরিকদের ওমানসহ মধ্যপ্রাচ্য ভ্রমণেও কঠোর সতর্কতা জারি করেছে ওয়াশিংটন। শুক্রবারের ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সশস্ত্র সংঘাত ও সন্ত্রাসবাদের কারণে গোটা মধ্যপ্রাচ্য জুড়েই এখন গুরুতর নিরাপত্তা ঝুঁকি বিরাজ করছে। এই অস্থিতিশীল অবস্থায় যেসব মার্কিন নাগরিক ওমান বা মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশে ভ্রমণের কথা ভাবছেন, তাঁদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার জোরালো আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের সব মার্কিন দূতাবাসে ইতিমধ্যে সর্বোচ্চ ‘লেভেল ৪’ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

আরও
উল্লেখ্য, ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে গত ৬ থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত টানা ২১ দিন তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সংলাপ চলে। তবে কোনো ধরনের সমঝোতা চুক্তি ছাড়াই সেই আলোচনা ভেস্তে যায়। ঠিক এর পরদিনই অর্থাৎ ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামের সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ঠিক একই সময়ে ইরানে ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ নামে সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েলও।
এসব বড় হামলার পাল্টা জবাব হিসেবে ইরানও ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের ছয়টি দেশ—সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমানে থাকা মার্কিন সেনাঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে দফায় দফায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করছে, যা এখনো অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যে গত বৃহস্পতিবার ইরান থেকে ধেয়ে আসা দুটি ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষের আঘাতে ওমানে দুজনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। মূলত এই ঘটনার পরপরই নিজেদের দূতাবাসকর্মীদের দ্রুত ফিরিয়ে নেওয়ার এই চূড়ান্ত পদক্ষেপ নিল যুক্তরাষ্ট্র।











