ওমানের রাজধানী মাসকাটের বিভিন্ন স্থানে রমজান মাস উপলক্ষে ভিক্ষাবৃত্তির ঘটনা আবারও বেড়ে গেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর অব্যাহত তৎপরতা সত্ত্বেও মসজিদ, শপিং মল এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই প্রবণতা ব্যাপকভাবে লক্ষ করা যাচ্ছে। রমজান মাসে সাধারণত মানুষের দান-খয়রাত করার প্রবণতা বাড়ে, আর এই সুযোগটিকেই কাজে লাগাচ্ছে একটি সুবিধাবাদী চক্র। নাগরিকদের উদ্বেগ হলো, এই পবিত্র মাসের আবেগকে পুঁজি করে সংঘবদ্ধভাবে ভিক্ষাবৃত্তি চালানো হচ্ছে।
স্থানীয় একটি গণমাধ্যমের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বাসিন্দাদের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরা হয়েছে। মুতরাহ এলাকার বাসিন্দা খালিদ আল খানবাশি জানান, বিশেষ করে মাগরিব ও জুমার নামাজের পর মসজিদে মসজিদে টাকা চাওয়ার দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। অনেক সময় এসব ব্যক্তির সঙ্গে অসুস্থ বা প্রতিবন্ধী শিশুও থাকে। সিব এলাকার বাসিন্দা আমির আল বেলুশিও একই অভিজ্ঞতার কথা জানান।
বাউশার এলাকার সুলাইমান আল আমরি নামের আরেক বাসিন্দা শপিং মলের বাইরে এক নারী ও শিশুর কাছে এমন অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে এই ভিক্ষাবৃত্তি কেবল রাস্তায় বা শপিং মলেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সাহায্যে এটি এখন ‘ইলেকট্রনিক ভিক্ষাবৃত্তিতে’ রূপ নিয়েছে। সিব এলাকার একটি মসজিদের ইমাম ইব্রাহিম আল রামলি এই প্রবণতাকে সমাজের ভাবমূর্তির জন্য ক্ষতিকর এবং মানুষের মর্যাদাহানিকর হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। শিশুদের এই কাজে ব্যবহার করাকে তিনি চরম শোষণ ও অধিকার লঙ্ঘন বলে মন্তব্য করেন।
আরও
ওমানের আইনে ভিক্ষাবৃত্তিকে সুস্পষ্ট অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়। এই আইনের অধীনে, প্রকাশ্যে বা ব্যক্তিগত স্থানে ভিক্ষা করলে দুই থেকে বারো মাসের কারাদণ্ড হতে পারে। পাশাপাশি অপরাধীকে ৫০ থেকে ১০০ ওমানি রিয়াল পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে। আর কোনো প্রবাসী এই অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে তাকে নিজ দেশে ফেরত বা ডিপোর্ট করার সুস্পষ্ট আইনি বিধান রয়েছে দেশটির আইনে।











