ওমানে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে হঠাৎ করেই হৃদরোগের প্রকোপ দেখা দিয়েছে। গত দুই মাসের ব্যবধানে সুইকে অন্তত চারজন বাংলাদেশি প্রবাসী হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানা গেছে, যাঁদের মধ্যে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। বাকি দুজন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে উঠলেও এই ঘটনা স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। এটি কেবল ওমানের বিচ্ছিন্ন কোনো চিত্র নয়; বরং পরিসংখ্যান বলছে, বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে স্ট্রোক ও হৃদরোগ।
ওমানে সর্বশেষ হৃদরোগের শিকার হয়ে মারা গেছেন মোহাম্মদ হরম আলী। তাঁর গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে। হরম আলী দীর্ঘ সময় ধরে আল সুইক বাজারের একটি টেইলার্সে কাটিং মাস্টার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সকালে হঠাৎ স্ট্রোক করলে হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তাঁর মৃত্যু হয়। এর প্রায় এক মাস আগে আবু সালেহ নামের আরেক বাংলাদেশি একইভাবে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। অন্যদিকে, চট্টগ্রামের লোহাগড়ার বাসিন্দা আব্দুর রহিম এবং জাকির নামের আরও দুই প্রবাসী সম্প্রতি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। টানা চিকিৎসার পর তাঁরা দুজনেই বর্তমানে সুস্থ আছেন।
প্রবাসীদের এই অকালমৃত্যুর পেছনে হৃদরোগ ও স্ট্রোক কতটা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে, তা প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং বিভিন্ন দেশি-বিদেশি সংস্থার পরিসংখ্যানে স্পষ্ট। ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে রেকর্ড ৪ হাজার ৮১৩ জন এবং ২০২৩ সালে ৪ হাজার ৫৫২ জন প্রবাসীর মরদেহ দেশে এসেছে। বেসরকারি সংস্থাগুলোর বিশ্লেষণ বলছে, বিদেশ থেকে আসা প্রবাসী বাংলাদেশিদের লাশের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি মৃত্যুর কারণ হিসেবে স্ট্রোক এবং হৃদরোগকে উল্লেখ করা হয়। উদ্বেগের বিষয় হলো, দেশে থাকা অবস্থায় সম্পূর্ণ সুস্থ থাকলেও বিদেশে যাওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই অনেক তরুণ এই মারণঘাতী রোগের শিকার হচ্ছেন।












