ওমানের ‘সুর’ অঞ্চলের বাসিন্দাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠা ঐতিহাসিক গোলচত্বরের কাঠামোটি ভেঙে ফেলা হয়েছে। দীর্ঘ ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই অবকাঠামো স্থানীয়দের পরিচয়ের প্রতীক ও যাতায়াতের দিকনির্দেশক হিসেবে দাঁড়িয়ে ছিল। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে স্কুল, কলেজ বা কর্মস্থলে যাওয়ার পথে এই চত্বরটিকে একটি মাইলফলক হিসেবে ব্যবহার করে এসেছে স্থানীয়রা। তবে এখন উন্নত ট্রাফিক ব্যবস্থার স্বার্থে স্মৃতিবিজড়িত গোলচত্বরটি অপসারণ করা হয়েছে।
দক্ষিণ আল শারকিয়াহ প্রদেশের সড়ক বিভাগের পরিচালক মুনির বিন আহমেদ আল আলাউই জানান, এই গোলচত্বরটির সাথে সুর অঞ্চলের মানুষের একটি প্রতীকী সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় এই চত্বরটি যানজট নিরসনের পরিবর্তে উল্টো যানজটের প্রধান কারণ বা ‘বটলনেক’ হিসেবে দেখা দিচ্ছিল। এছাড়া ওই অঞ্চলের নতুন সড়ক পরিকল্পনা, উচ্চতা সমন্বয় এবং বিদ্যুৎ, পানি ও টেলিযোগাযোগের লাইন স্থানান্তরের স্বার্থে গোলচত্বরটি সরিয়ে ফেলা অপরিহার্য হয়ে পড়ে।
স্মৃতিবিজড়িত এই গোলচত্বরের স্থলে এখন একটি অত্যাধুনিক ট্রাফিক সংকেত নিয়ন্ত্রিত জংশন বা মোড় তৈরি করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে যান চলাচল আরও সুশৃঙ্খল এবং নিরাপদ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বর্তমানে প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়ের চেয়েও দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। আশা করা হচ্ছে, ২০২৬ সালের অক্টোবরের মধ্যে এই আধুনিক জংশনটি জনসাধারণের জন্য পুরোপুরি উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। পুরনো ল্যান্ডমার্কটি হারিয়ে যাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে কিছুটা আবেগীয় শূন্যতা তৈরি হলেও, উন্নত ভবিষ্যৎ এবং নিরাপদ যাতায়াতের কথা বিবেচনা করে এই পরিবর্তনকে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে।









