ওমানের আদ-দাখিলিয়াহ এলাকায় প্রবাসীদের পরিচালিত একটি আবাসিক বাড়িতে অবৈধভাবে মসলা প্রস্তুত ও প্যাকেটজাত করার অভিযোগে অভিযান চালিয়ে এক হাজার কেজির বেশি ভেজাল/অননুমোদিত খাদ্যপণ্য জব্দ করেছে দেশটির কনজ্যুমার প্রোটেকশন অথরিটি (CPA)। কর্তৃপক্ষ বলছে, প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ছাড়াই আবাসিক স্থাপনায় খাদ্যপণ্য প্রক্রিয়াজাত ও প্যাকেটজাত করা হচ্ছিল, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
কনজ্যুমার প্রোটেকশন অথরিটির আদ-দাখিলিয়াহ বিভাগ নিঝওয়া মিউনিসিপ্যালিটি এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ে যৌথ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে কয়েকজন প্রবাসী কর্মীকে আটক করা হয়, যারা অনুমোদনহীনভাবে বিভিন্ন ধরনের মসলা প্যাকেটজাত করছিলেন। কর্তৃপক্ষের দাবি, এই কার্যক্রম বাণিজ্যিক প্রতারণা দমনসংক্রান্ত ইউনিফাইড আইন (নং ৫৪/২০২১) লঙ্ঘনের আওতায় পড়ে।
কনজ্যুমার প্রোটেকশন অথরিটি জানায়, একটি আবাসিক সম্পত্তিতে অনুমোদিত মানদণ্ড ও স্বাস্থ্যবিধি না মেনে খাদ্যপণ্য প্রস্তুত ও প্যাকেটজাত করা হচ্ছে—এমন তথ্য পাওয়ার পর তা যাচাই করা হয়। তথ্য নিশ্চিত হওয়ার পর যৌথ পরিদর্শনে গিয়ে বিভিন্ন কন্টেইনারে সংরক্ষিত এক হাজার কেজিরও বেশি খাদ্যপণ্য উদ্ধার করা হয়। পরিদর্শনে পণ্য সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতে অনুপযুক্ত পদ্ধতি ব্যবহারের প্রমাণও পাওয়া গেছে বলে জানায় সংস্থাটি।
আরও
তল্লাশিতে আরও দেখা যায়, জব্দকৃত পণ্যে উৎপাদন তারিখ, মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখসহ প্রয়োজনীয় লেবেলিং তথ্য অনুপস্থিত ছিল। ভোক্তাদের নিরাপত্তা বিবেচনায় সব খাদ্যপণ্যের পাশাপাশি প্যাকেটজাতকরণে ব্যবহৃত সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতিও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। CPA জানিয়েছে, ভোক্তা সুরক্ষা আইন ও এর নির্বাহী বিধিমালা অনুযায়ী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কনজ্যুমার প্রোটেকশন অথরিটি আরও জানায়, বাজারে অনিরাপদ পণ্য প্রবেশ ঠেকানো এবং বাণিজ্যিক প্রতারণা দমনে নিয়মিত তদারকির অংশ হিসেবে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে কোনো অনিয়ম নজরে এলে অফিসিয়াল চ্যানেলের মাধ্যমে তথ্য দিতে সাধারণ জনগণকে আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি—যাতে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা জোরদার হয় এবং ‘ওমান ভিশন ২০৪০’-এর লক্ষ্য অর্জনে সমন্বিত উদ্যোগ কার্যকর করা যায়।










