ওমানজুড়ে বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি ২০২৬) থেকে বিবাহপূর্ব বাধ্যতামূলক স্বাস্থ্য পরীক্ষা কার্যকর হয়েছে। রয়্যাল ডিক্রির মাধ্যমে চালু হওয়া এই নীতিকে পরিবার–স্বাস্থ্য সুরক্ষা, বংশগত রোগ প্রতিরোধ এবং সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ওমানি নাগরিকদের পাশাপাশি যদি বর–কনে দু’জনের একজন অ-ওমানিও হন, তবুও এই পরীক্ষা বাধ্যতামূলক হবে—বিবাহ দেশে বা দেশের বাইরে যে স্থানেই অনুষ্ঠিত হোক না কেন।
নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, পরীক্ষা সম্পন্ন না হলে কোনো বিয়ের নিবন্ধন চূড়ান্ত করা যাবে না। পরীক্ষার আওতায় সিকেল সেল অ্যানেমিয়া ও থ্যালাসেমিয়ার মতো বংশগত রক্তরোগ শনাক্তকরণসহ হেপাটাইটিস বি, হেপাটাইটিস সি এবং এইচআইভি/এইডসসহ সংক্রামক রোগ স্ক্রিনিং অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের মতে, এই উদ্যোগ সমাজে জিনগত রোগের ঝুঁকি কমাতে এবং সংক্রামক রোগ দমনে দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার অংশ।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, আগাম শনাক্তকরণ ভবিষ্যৎ সন্তানদের বংশগত রক্তরোগ থেকে রক্ষা করতে পারে এবং পরিবারগুলোকে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা, মানসিক চাপ ও আর্থিক ব্যয়ের বোঝা থেকে মুক্ত রাখে। একইসঙ্গে দম্পতির মধ্যে রোগ সংক্রমণের সম্ভাবনা কমে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী প্রতিরোধমূলক ও চিকিৎসাসেবা গ্রহণ সহজ হয়।
আরও
ওমানে ১৯৯৯ সাল থেকে স্বেচ্ছাসেবীভাবে বিবাহপূর্ব স্বাস্থ্য পরীক্ষা চালু থাকলেও ২০২৫ সালে অংশগ্রহণের হার ছিল মাত্র ৪২ শতাংশ। এ কারণে বাধ্যতামূলক ব্যবস্থায় যেতে হয়েছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। তবে কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করেছে, বাধ্যতামূলক বলতে কেবল পরীক্ষা করানোকে বোঝায়; কারও বিবাহের সিদ্ধান্তে রাষ্ট্র হস্তক্ষেপ করবে না। পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে দম্পতিকে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরামর্শ প্রদান করা হবে।
পরীক্ষা দেশের সব সরকারি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এবং অনুমোদিত বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পাওয়া যাবে। প্রয়োজনীয় সব পরীক্ষা ও কাউন্সেলিং শেষ হলে একটি অফিসিয়াল সার্টিফিকেট ইস্যু করা হবে, যা সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের নটারি পাবলিক প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে ডিজিটালি সংযুক্ত থাকবে। মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে, ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য–তথ্য সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে এবং কোনো তৃতীয় পক্ষের সঙ্গে শেয়ার করা হবে না।










