ওমান প্রবাসী কর্মীদের জন্য বেতন সুরক্ষায় বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তন এনেছে দেশটির শ্রম মন্ত্রণালয়। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কোনো প্রতিষ্ঠানের মালিক বা নিয়োগকর্তা ইচ্ছেমতো আর বেতন আটকে রাখতে বা দেরিতে দিতে পারবে না। বাধ্যতামূলকভাবে সকল কর্মীর বেতন ‘ওয়েজ প্রোটেকশন সিস্টেম’ (WPS) বা ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে পরিশোধ করতে হবে। নিয়ম অমান্যকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
২৫ ডিসেম্বর জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে মন্ত্রণালয় জানায়, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে তাদের মোট কর্মীর কমপক্ষে ৯০ শতাংশের বেতন ডিজিটাল সিস্টেমে প্রদান করতে হবে। ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসের বেতন থেকেই এই নিয়ম কার্যকর হবে। ফলে হাতে হাতে বেতন দেওয়ার প্রচলন কার্যত বন্ধ হচ্ছে, যা বিদেশি কর্মীদের বেতন সংক্রান্ত অনিয়ম, প্রতারণা ও ইচ্ছাকৃত বিলম্বের সম্ভাবনা কমিয়ে আনবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করেছে, বেতন প্রদানের স্বচ্ছতা ও ট্র্যাকিং নিশ্চিত করতেই এই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে প্রবাসী কর্মীদের শ্রম অধিকার রক্ষায় ওয়েজ প্রোটেকশন সিস্টেম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
আরও
কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, যেসব মালিক বা কফিল সময়মতো বেতন প্রদান করবেন না বা WPS অনুসরণে ব্যর্থ হবেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শ্রমিকদের বেতন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা দিতে হবে এবং এই প্রক্রিয়া ডিজিটালভাবে মন্ত্রণালয় পর্যবেক্ষণ করবে।
ওমান সরকারের এই উদ্যোগকে প্রবাসী শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষা ও শ্রমবাজারে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। নতুন নীতিমালা কার্যকর হলে বেতন সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের ভোগান্তি অনেকটাই কমে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।










