ওমানের শ্রমবাজারে প্রবাসী কর্মীর সংখ্যা কমে যাওয়ার পেছনে বর্তমান মজুরি কাঠামো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে জানিয়েছে দেশটির শ্রম মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ও শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আম্মার বিন সালেম আল সাদী জানান, বর্তমানে ভারতে বেতন অনেক ক্ষেত্রে ওমানের সমপর্যায়ে পৌঁছে যাওয়ায় শ্রমিকরা মধ্যপ্রাচ্যের চাকরির প্রতি আগের মতো আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।
তিনি বলেন, এটি মূলত শ্রমবাজারের স্বাভাবিক বৈশ্বিক পরিবর্তন, ওমান সরকারের কোনো নীতি সংশোধনের প্রভাব নয়। ওমান–ভারত সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (CEPA) দেশটির শ্রমনীতি বা ওমানাইজেশন কাঠামোতে প্রভাব ফেলবে—এমন ধারণাও অমূলক বলে মন্তব্য করেন তিনি। চুক্তি সত্ত্বেও বিদেশি কর্মী নিয়োগ ও শ্রমবাজার নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণভাবে ওমান সরকারের হাতে থাকবে।
একই সঙ্গে প্রবাসী কর্মীদের ভিসা ও কাগজপত্র–সংক্রান্ত জটিলতাও শ্রমিক সংকটের একটি বাস্তব কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। সাম্প্রতিক সময়ে ওমানসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ভিসা কোটার সীমাবদ্ধতা, পেশা পরিবর্তনে কঠোরতা, অনুমোদিত ভিসা ক্যাটাগরির সংকোচন, এবং ভিসা–স্ট্যাটাস হালনাগাদে বিলম্ব অনেক কর্মীর চাকরির সুযোগকে সীমিত করে তুলছে। এর ফলে বিদেশগামী অনেক শ্রমিক ভারতেই বিকল্প কর্মসংস্থান বেছে নিচ্ছেন।
আরও
ওমানি সরকারের ব্যাখ্যায় বলা হয়, CEPA–র মূল লক্ষ্য দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানো। তবে দেশের শ্রমনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে ওমানি নাগরিকদের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং শ্রমবাজারে তাদের অগ্রাধিকার নিশ্চিত করা।
ওমান–ভারত CEPA নিয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে কর্তৃপক্ষ জনমনে থাকা উদ্বেগ দূর করার চেষ্টা করেছে। শ্রম মন্ত্রণালয় পুনরায় জানায়, আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব বাড়লেও শ্রমবাজারে জাতীয় স্বার্থ ও বিদেশি কর্মী নিয়ন্ত্রণ—উভয় ক্ষেত্রেই ওমান সরকারের পূর্ণ সার্বভৌম ক্ষমতা অক্ষুণ্ণ থাকবে।












