ওমান শ্রম আইনে প্রবাসী কর্মীদের শাস্তির ক্ষেত্রে নতুন করে কঠোর বিধান যুক্ত করা হয়েছে। এসব বিধান অনুযায়ী, কোনো নিয়োগকর্তা আর ইচ্ছেমতো শাস্তি দিতে পারবেন না; বরং শাস্তি আরোপের আগে নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া বাধ্যতামূলকভাবে অনুসরণ করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে লিখিত নোটিশ প্রদান, কর্মীর আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া এবং তদন্ত সম্পর্কিত সব তথ্য নথিবদ্ধ রাখা।
টাইমস অব ওমানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মোহাম্মদ ইব্রাহিম ল ফার্মের প্রতিষ্ঠাতা ড. মোহাম্মদ ইব্রাহিম আল জাদজালি জানান, শাস্তিমূলক ব্যবস্থার ক্ষেত্রে এখন থেকে সময়সীমা কঠোরভাবে মানতে হবে। কোনো অভিযোগ নিয়োগকর্তা বা প্রতিষ্ঠানের নজরে আসার ৩০ দিন পরে আর সেই অপরাধে কর্মীকে দায়ী করা যাবে না। একইভাবে, অপরাধ প্রমাণিত হলেও ৬০ দিন পেরিয়ে গেলে শাস্তি কার্যকর করা যাবে না। অতীতের ঘটনা সামনে এনে প্রবাসীদের হয়রানি বন্ধ করতেই এই সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
আইনে জরিমানার সীমা নিয়েও স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কোনো একক অপরাধের জন্য এক মাসে সর্বোচ্চ পাঁচ দিনের বেতনের সমপরিমাণ জরিমানা আদায় করা যাবে। তাছাড়া বিনা বেতনে সাময়িক বরখাস্তের মেয়াদও পাঁচ দিনের বেশি হতে পারবে না। এ ছাড়া শাস্তির আগে যে তদন্ত করতে হবে, সেটি অবশ্যই স্বচ্ছ ও পূর্ণাঙ্গ হতে হবে।
আরও
নতুন শ্রম আইনে অভিযুক্ত কর্মীর অধিকারও আরও সুস্পষ্ট করা হয়েছে। তদন্ত প্রক্রিয়ায় কর্মী চাইলে সমস্ত নথিপত্র পর্যালোচনা করতে পারবেন এবং তার কপি গ্রহণেরও অধিকার রাখেন। পাশাপাশি, তদন্তকারী কর্মকর্তাকে অবশ্যই অভিযুক্ত কর্মীর সমপদস্থ বা তার চেয়ে উচ্চপদস্থ হতে হবে, যাতে নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা যায়।
ওমান সরকারের এই নতুন আইন প্রবাসী কর্মীদের হয়রানি ও ইচ্ছাধীন শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।











