ওমানের ভিসা দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় দালালচক্র ও আদম ব্যবসায়ীরা ভুয়া প্রতিশ্রুতি দিয়ে অসংখ্য বাংলাদেশিকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলছে। ভিসা দেওয়ার নামে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার এসব অভিযোগ ক্রমেই বাড়ছে, যার ফলে প্রবাসে যেতে আগ্রহীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট মহল। এরই ধারাবাহিকতায় টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে ওমানে পাঠানোর প্রতারণা মামলায় আদম ব্যবসায়ী মো. আশিককে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বুধবার টাঙ্গাইলের বিজ্ঞ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করেন।
ঘাটাইলের গৌরাঙ্গী গ্রামের মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান গত ৭ নভেম্বর আশিক, তার স্ত্রী সুমি আক্তার ও শ্বশুর সোহরাব আলীর বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলার অভিযোগে বলা হয়, ওমানের ব্যবসায় ভিসার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আশিক ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন এবং নগদ ৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা নেন। তবে টাকা নেওয়ার পরও ভিসা ও কাজের কোনো ব্যবস্থা না করে দীর্ঘদিন তালবাহানা করতে থাকেন এবং বিভিন্ন সময়ে বাদীকে ভয়ভীতি দেখান। স্থানীয়ভাবে সমস্যা সমাধান না হওয়ায় তিনি আদালতের দ্বারস্থ হন।

আরও
প্রতারণার শিকার শুধু মোস্তাফিজুরই নন। ওমানে কর্মরত আরও কয়েকজন বাংলাদেশি দাবি করেছেন, আশিক ও তার পরিবার তাদেরও একইভাবে প্রতারণা করেছে। তারা জানান, ভিসা ও উপযুক্ত চাকরির নিশ্চয়তা দেওয়ার পরিবর্তে তাদের একটি সাপ্লাই কোম্পানিতে ‘বিক্রি করে দেওয়া’ হয়, যেখানে তারা মানবিক সংকট ও আর্থিক দুর্ভোগে পড়েন। তাদের একজন পারভেজ হোসেন জানিয়েছেন, আশিকের প্রতারণায় বহু পরিবার পথে বসেছে এবং তিনি এর কঠোর শাস্তি দাবি করেন।
ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন, ভিসা বন্ধ থাকা সত্ত্বেও ‘বিশেষ যোগসূত্রে ভিসা পাওয়া যাবে’ বলে আশিকের মতো দালালচক্র অসংখ্য মানুষের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। তাদের মতে, এসব প্রতারণা রোধে সরকারি পর্যায়ে কঠোর নজরদারি ও আইন প্রয়োগ জরুরি।
মামলার তদন্তকারী সংস্থা জানিয়েছে, আশিকের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করা হচ্ছে। তদন্তে তার স্ত্রী ও শ্বশুরসহ অন্যরা জড়িত থাকার প্রমাণ মিললে তাদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে প্রবাস-প্রত্যাশী বাংলাদেশিদের দালালদের প্রলোভনে না পড়ে বৈধ প্রক্রিয়ায় বিদেশ যাত্রার আহ্বান জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।












