ওমানের একটি কোম্পানিতে হঠাৎ করে ২৬ জন শ্রমিককে একযোগে ছাঁটাই করার ঘটনা দেশটির শ্রমসংক্রান্ত সংস্থা জেনারেল ফেডারেশন অব ওমান ওয়ার্কার্স (GFOW)–এর নজরে এসেছে। ফেডারেশন জানিয়েছে, এই পরিস্থিতি শ্রমবাজারে অস্থিতিশীলতার ইঙ্গিত বহন করে। বিশেষত বাংলাদেশি কর্মীদের প্রতি সতর্কতা জারি করে বলা হয়েছে—আইনি নথিপত্র, পাসপোর্ট, ভিসা ও কর্মচুক্তি নিয়মিত হালনাগাদ এবং সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা এখন অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
অক্টোবর মাসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত মাসে ১২টি ব্যক্তিগত ও যৌথ অভিযোগ সংগঠনের কাছে জমা পড়ে। এসব অভিযোগের বিষয়ে বিভিন্ন মধ্যস্থতা ও আলোচনা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্য থেকে পাঁচটি অভিযোগ নিষ্পত্তি হয়েছে, তিনটি মামলার বিষয়ে আদালত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং চারটি অভিযোগের তদন্ত চলছে। শ্রম বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপের প্রভাব ওমানের শ্রমবাজারেও পড়ছে এবং আগামী মাসগুলোতে অভিযোগের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, GFOW গত মাসে মোট ৮৭টি বিভিন্ন আইনি পরামর্শ প্রদান করেছে। বেতনসংক্রান্ত সমস্যা, ছুটি, কর্মঘণ্টা, চুক্তি বাতিল, প্রজেক্ট ট্রান্সফার, চাকরি থেকে বাদ দেওয়া, কর্মপরিবেশ উন্নয়ন এবং শ্রমিক ইউনিয়ন গঠন—এসব বিষয়ে প্রবাসীরা সবচেয়ে বেশি পরামর্শ চান। অনেক বাংলাদেশি শ্রমিক আইন সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণে ভুল তথ্যের শিকার হন এবং অনেকে নানা ধরনের প্রতারণায় পড়েন। তাই বড় কোনো সিদ্ধান্তের আগে দূতাবাস বা বিশ্বস্ত কোনো প্ল্যাটফর্ম থেকে পরামর্শ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আরও
একই সঙ্গে শ্রমিক সংগঠনগুলোর কার্যক্রমেও অগ্রগতি হয়েছে। GFOW জানায়, অক্টোবর মাসে দুটি নতুন শ্রমিক ইউনিয়ন গঠিত হয়েছে এবং সাতটি বিদ্যমান ইউনিয়ন আইনি কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পুনর্গঠিত হয়েছে। এতে শ্রমিকদের সমষ্টিগত অধিকার সুরক্ষায় আরও শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য জরুরি সতর্কতা
GFOW ও শ্রম বিশ্লেষকদের পক্ষ থেকে ওমানে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য আলাদা সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
কর্মচুক্তি, ভিসা ও আবাসিক নথি সবসময় বৈধ ও আপডেট রাখতে হবে
অবৈধ উপায়ে চাকরি পরিবর্তন বা ভিসা ট্রান্সফার করা ঝুঁকিপূর্ণ
ছাঁটাই হলে সঙ্গে সঙ্গে দূতাবাস বা শ্রম অফিসে যোগাযোগ করতে হবে
কোনো অবস্থায় পাসপোর্ট কারও কাছে জমা দেওয়া যাবে না
অনুমোদন ছাড়া অতিরিক্ত কাজে যুক্ত হওয়া আইনত দণ্ডনীয়
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রবাসীরা সচেতন হলে শ্রমবাজারে যেসব ঝুঁকি এবং প্রতারণার সম্ভাবনা থাকে—তা অনেকাংশেই এড়ানো সম্ভব।












