ওমানের নতুন শ্রম আইনে নির্দিষ্ট কিছু গুরুতর অপরাধ বা দায়িত্ব লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কর্মীকে পূর্ব নোটিশ ছাড়াই চাকরিচ্যুত করার বিধান রাখা হয়েছে। রয়্যাল ডিক্রি ৫৩/২০২৩ অনুসারে প্রণীত শ্রম আইনের ৪০ নম্বর অনুচ্ছেদে এমন নয়টি পরিস্থিতি উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে গ্র্যাচুইটি প্রদান ছাড়াও তাৎক্ষণিক বরখাস্ত আইনগতভাবে বৈধ বিবেচিত হবে।
এ বিষয়ে টাইমস অব ওমানকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মোহাম্মদ ইব্রাহিম ল’ ফার্মের প্রতিষ্ঠাতা অংশীদার ড. মোহাম্মদ ইব্রাহিম আল জাজালি বলেন, কর্মী ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করলে, জাল কাগজপত্রের মাধ্যমে চাকরি নিলে বা প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ক্ষতির কারণ হলে নিয়োগকর্তা তাকে সরাসরি বরখাস্ত করতে পারেন। শর্ত হচ্ছে—ক্ষতির বিষয়টি ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে রিপোর্ট করতে হবে। এছাড়া নিরাপত্তা বিধি বারবার অমান্য করা বা অজুহাত ছাড়া একটানা সাত দিন কিংবা বছরে দশ দিন অনুপস্থিত থাকা—এমন আচরণও তাৎক্ষণিক বরখাস্তের আওতাভুক্ত।
আরও
তিনি আরও জানান, প্রতিষ্ঠানের গোপন তথ্য ফাঁস, কর্মস্থলে সংঘটিত অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত হওয়া, মদ্যপ অবস্থায় ডিউটি করা, কর্মঘণ্টায় অনৈতিক আচরণ কিংবা সহকর্মী বা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে শারীরিকভাবে আক্রমণ করার মতো অপরাধও আইনে গুরুতর শৃঙ্খলাভঙ্গ হিসেবে চিহ্নিত।
ড. আল জাজালি বলেন, এই আইন নিয়োগকর্তাদের স্বার্থ রক্ষা করলেও বরখাস্তের সিদ্ধান্তের আগে সঠিক প্রক্রিয়া মেনে চলা বাধ্যতামূলক। এর মধ্যে রয়েছে পর্যাপ্ত প্রমাণ সংগ্রহ, প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে লিখিত সতর্কবার্তা প্রদান এবং সমস্ত অনিয়ম নথিভুক্ত করা। অন্যায়ভাবে বরখাস্ত মনে হলে কর্মী শ্রম আদালত বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করার সুযোগ রাখেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, আইনটির মূল উদ্দেশ্য কর্মক্ষেত্রে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা। তবে এর প্রয়োগ অবশ্যই হতে হবে ন্যায্য, যুক্তিসঙ্গত ও প্রমাণসাপেক্ষ—কোনোভাবেই যেন তা স্বেচ্ছাচারী সিদ্ধান্তে পরিণত না হয়।











![]gfd](https://probashtime.net/wp-content/uploads/2026/03/gfd.webp)
