বৈশ্বিক উষ্ণায়ন এবং মিঠা পানির ক্রমবর্ধমান সংকটের কারণে পাকিস্তান, সৌদি আরব, কুয়েত ও ওমানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ টিকে থাকার জন্য সমুদ্রের পানি লবণমুক্ত করার প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। একসময় যা মধ্যপ্রাচ্যের ধনী দেশগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল, তা এখন পানি সুরক্ষার একটি অপরিহার্য সমাধান হিসেবে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে।
গ্লোবাল ওয়াটার ইন্টেলিজেন্স (জিডব্লিউআই) এর তথ্যমতে, গত এক দশকে বিশ্বজুড়ে লবণমুক্তকরণ প্ল্যান্টের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে ২০ হাজারে পৌঁছেছে এবং প্রায় ১৬০টি দেশ এই প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। বর্তমানে সৌদি আরব বিশ্বের বৃহত্তম লবণাক্ত পানি শোধনকারী দেশ। বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের মতো দেশগুলোও ভূগর্ভস্থ লবণাক্ত পানি শোধনে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। ‘রিভার্স অসমোসিস’ বা বিপরীত অভিস্রবণ হলো এর সবচেয়ে প্রচলিত পদ্ধতি।
তবে এই প্রযুক্তির বড় দুটি চ্যালেঞ্জ হলো—প্ল্যান্ট স্থাপনের বিপুল বিনিয়োগ এবং শোধন প্রক্রিয়ার পর উৎপন্ন বর্জ্য লবণাক্ত পানি (ব্রাইন) সমুদ্রে নিষ্কাশন, যা সামুদ্রিক পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করে। তা সত্ত্বেও, বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পানির চাহিদা মেটাতে আগামী দিনগুলোতে এই প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বাড়বে।











