ওমানের দোফার প্রদেশে প্রথমবারের মতো থ্রিডি প্রিন্টিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে মসজিদ নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। দোহারিজ সমুদ্রতীরবর্তী এলাকায় এই নতুন স্থাপত্য নিদর্শন হবে অভিনব নকশা ও টেকসই প্রযুক্তির সমন্বয়ে তৈরি। নির্মাণকাজে ব্যবহৃত থ্রিডি প্রিন্টিং প্রযুক্তি দ্রুত কাজ সম্পন্ন করতে সহায়তা করবে এবং নির্মাণসামগ্রীর অপচয়ও কমাবে।

ওমানের দোফার গভর্নরেট দেশটির প্রথম থ্রিডি প্রিন্টেড মসজিদ নির্মাণে চুক্তি করেছে। ইনোটেক ওমান এবং ওডে আর্কিটেকচারের যৌথ উদ্যোগে এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে। চুক্তি স্বাক্ষরের অনুষ্ঠানে দোফারের গভর্নর সাইয়্যিদ মারওয়ান বিন তুর্কি আল সাঈদ, দোফার মিউনিসিপ্যালিটির প্রধান ড. আহমেদ বিন মোহসেন আল গাসসানি এবং প্রকল্পের স্পন্সর ইঞ্জিনিয়ার ইয়াসির বিন সাঈদ আল বারামি উপস্থিত ছিলেন।
আরও
মসজিদের নকশায় ‘স্পাইরাল রিবন’ বা সর্পিল ফিতার ধারণা ব্যবহার করা হয়েছে। এতে প্রাঙ্গণে ছায়াঘেরা পথ তৈরি হবে এবং ধাপে ধাপে সবুজায়নের ব্যবস্থা থাকবে। পুরো স্থাপনায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রযুক্তি সংযোজিত হবে, যা মানুষের চলাচল, বাতাস ও সূর্যের আলো থেকে শক্তি আহরণ করবে। প্রধান নামাজঘর ডিম্বাকৃতি হবে এবং তার উপরের অকুলাস থেকে প্রাকৃতিক আলো প্রবেশ করবে, যা আল্লাহর দিকনির্দেশনার প্রতীক হিসেবে দেখা হবে।
মিনারেটের নকশায় অনুপ্রেরণা নেওয়া হয়েছে ওমানের ঐতিহ্যবাহী পালতোলা নৌকা ও ধূপদানি থেকে। এর শীর্ষে থাকবে চাঁদের হিলাল, যা ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মেলবন্ধন ঘটাবে। মসজিদ ও তার চারপাশের ল্যান্ডস্কেপে লবণ ও বাতাস-সহনশীল উদ্ভিদ ব্যবহার করা হবে, যা পরিবেশবান্ধব ও টেকসই নগরায়ণ নিশ্চিত করবে।
ড. আহমেদ বিন মোহসেন আল গাসসানি জানিয়েছেন, এই মসজিদ দোহারিজ সৈকতে আধ্যাত্মিক, স্থাপত্যিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব বহন করবে। থ্রিডি প্রিন্টিং প্রযুক্তির মাধ্যমে নির্মাণ কাজ দ্রুত এবং পরিবেশবান্ধব উপায়ে সম্পন্ন হবে, যা দোফারের টেকসই উন্নয়ন ও স্থাপত্য নীতির প্রতি প্রতিশ্রুতি আরও জোরদার করবে।
সূত্র : গালফ নিউজ











