ওমানে কর্মরত প্রবাসী মোহাম্মদ হামিদ ইউটিউবে ভিয়েতনামি হলুদ মাল্টা চাষের ভিডিও দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে দেশে ফিরে ভিন্নধর্মী উদ্যোগ নেন। ২০২২ সালে ছুটিতে এসে তিনি রাউজানের কদলপুর ইউনিয়নে পৈতৃক দুই বিঘা জমিতে প্রায় ১৩ লাখ টাকা ব্যয়ে উন্নত জাতের ৪০০ মাল্টা গাছ রোপণ করেন। কয়েক বছরের পরিচর্যার পর এ বছর তাঁর বাগান থেকে প্রায় পাঁচ লাখ টাকার মাল্টা বিক্রি হবে বলে আশা করছেন তিনি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বাগানে থোকায় থোকায় ঝুলছে পাকা মাল্টা। আকারে এগুলো বাজারের আমদানি করা মাল্টার চেয়ে বড় এবং ফরমালিনমুক্ত। বাগানে মিশ্র চাষ হিসেবে রয়েছে আম, কলা, পেয়ারা, লেবু, পিংক কাঁঠাল ও লিচুর গাছও। বর্তমানে বাগান থেকেই ২৫০ টাকা কেজি দরে মাল্টা বিক্রি হচ্ছে। স্থানীয়রা গাছ থেকে সরাসরি ফল ছিঁড়ে কেনার সুযোগ নিচ্ছেন এবং অনেকে বাগানেই খেয়ে দেখছেন এর স্বাদ।
হামিদের বাবা মোহাম্মদ হারুন জানান, তিনিও একসময় প্রবাসে ছিলেন। ছেলের উদ্যোগকে উৎসাহ দিয়ে তিনি নিজেও বাগান পরিচর্যায় পাশে দাঁড়িয়েছেন। অন্যদিকে রাউজান উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাসুম কবির বলেন, এলাকায় সবুজ মাল্টার চাষ হলেও বাণিজ্যিকভাবে হলুদ জাতের মাল্টা প্রথম এনেছেন হামিদ। কৃষি বিভাগ থেকে তাঁকে নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তাঁর মতে, দেশে মাল্টা উৎপাদন বাড়ানো গেলে আমদানি নির্ভরতা কমবে এবং মানুষ নিরাপদ ফল পাবে।
আরও
স্থানীয় ক্রেতা ফাহমিদা আক্তার বলেন, বাজারে বিদেশি মাল্টার দাম কেজিপ্রতি প্রায় ৩০০ টাকা, আবার তাতে ফরমালিনের আশঙ্কাও থাকে। কিন্তু হামিদের বাগানের মাল্টা তুলনামূলক সস্তা, শতভাগ নিরাপদ এবং স্বাদেও উন্নত। অন্যদিকে বাগানের কর্মচারী সবুজ দাশ জানান, মাসিক ১২ হাজার টাকা বেতনে তিনি এখানে কাজ করছেন এবং এই বাগানেই তাঁর সংসারের ভরসা। কিছু গাছের ফল বিক্রির উপযোগী হলেও বেশিরভাগ ফল পাকতে আরও কিছুদিন সময় লাগবে।
নিজ উদ্যোগের গল্প বলতে গিয়ে হামিদ জানান, ইউটিউবে প্রায় ১০ মিনিটের একটি ভিডিও দেখে তাঁর এই উদ্যোগের অনুপ্রেরণা জাগে। প্রথম বছর ফল সংগ্রহ না করলেও গত বছর থেকে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হয়েছে। এ বছর তাঁর বাগান থেকে পাঁচ লাখ টাকার মাল্টা বিক্রির আশা করছেন তিনি। হামিদের দাবি, চট্টগ্রামে তিনিই প্রথম ভিয়েতনামি হলুদ মাল্টার বাণিজ্যিক চাষ শুরু করেছেন।











