বিদেশি বিনিয়োগ ও দক্ষ জনশক্তি আকর্ষণের লক্ষ্যে ওমান আনুষ্ঠানিকভাবে ১০ বছরের গোল্ডেন রেসিডেন্সি কর্মসূচি চালু করেছে। দেশটির ভিশন–২০৪০ সংস্কার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গত রোববার (৩১ আগস্ট) সালালাহতে আয়োজিত সাসটেইনেবল বিজনেস এনভায়রনমেন্ট ফোরাম-এ এ ঘোষণা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে ধোফারের গভর্নর সায়্যিদ মারওয়ান বিন তুরকি আল সাঈদ এবং বাণিজ্য, শিল্প ও বিনিয়োগ মন্ত্রী কায়িস বিন মোহাম্মদ আল ইউসুফ উপস্থিত ছিলেন।
এই কর্মসূচির আওতায় অন্তত দুই লাখ ওমানি রিয়াল (প্রায় ৫ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলার) বিনিয়োগ করলে বিনিয়োগকারীরা ১০ বছরের জন্য নবায়নযোগ্য আবাসনের অনুমতি পাবেন। এতে তাদের স্ত্রী-সন্তান ও নিকটাত্মীয়রাও অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। পাশাপাশি থাকছে বিমানবন্দরে দ্রুত সেবা, সর্বোচ্চ তিনজন গৃহকর্মী নিয়োগের সুযোগ এবং নির্দিষ্ট এলাকার বাইরে সম্পত্তি কেনার অনুমতি।
যোগ্যতা অর্জনের জন্য বিনিয়োগকারীদের কয়েকটি পথ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—কোম্পানি প্রতিষ্ঠা, পর্যটন কমপ্লেক্সে সম্পত্তি ক্রয়, সরকারি বন্ড বা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ, ব্যাংক ডিপোজিট রাখা কিংবা অন্তত ৫০ জন ওমানি কর্মী নিয়োগ। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে কৌশলগত খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে, কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে এবং জ্ঞান স্থানান্তর সহজ হবে।
আরও
ফোরাম চলাকালে “ডিস্টিংগুইশড কোম্পানিজ” উদ্যোগও উদ্বোধন করা হয়। এর মাধ্যমে সুশাসন, রাজস্ব, ওমানাইজেশন হার ও রপ্তানি কার্যক্রমের ভিত্তিতে দেশটির শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বীকৃতি দেওয়া হবে। পাশাপাশি ব্যবসায়িক নিবন্ধন হস্তান্তরের জন্য একটি নতুন ডিজিটাল সেবাও চালু করা হয়েছে, যা ওমানের ডিজিটাল রূপান্তর যাত্রার আরেকটি পদক্ষেপ।
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এই কর্মসূচি প্রচারের দায়িত্ব পেয়েছে আলম আল হিজরাহ (মাইগ্রেশন ওয়ার্ল্ড), যাদের নেটওয়ার্ক রয়েছে ৬০টিরও বেশি দেশে। আগে ন্যূনতম বিনিয়োগ সীমা ছিল দুই লাখ ৫০ হাজার রিয়াল, যা কমিয়ে আনা হয়েছে দুই লাখ রিয়ালে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ পদক্ষেপের মাধ্যমে উপসাগরীয় অন্যান্য দেশের দীর্ঘমেয়াদি আবাসন কর্মসূচির সঙ্গে প্রতিযোগিতায় ওমান শক্ত অবস্থান তৈরি করবে।











