শরীয়তপুরের ডোমসার ইউনিয়নের কোয়ারপুর গ্রামের আসমা আক্তার পাটের ব্যাগ তৈরি করে দেশ-বিদেশে সাড়া ফেলেছেন। পরিবেশবান্ধব এই ব্যাগ এখন যাচ্ছে ওমানে। প্রথমবারের মতো এক লাখ পিস পাটের ব্যাগ রপ্তানির অর্ডার পেয়েছেন তিনি। এর আগে তার তৈরি ব্যাগ রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে জনপ্রিয়তা পেয়েছে, পাশাপাশি অনেক বেকার নারীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছে।

জন্ম থেকেই শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্ত্বেও আসমা নিজেকে স্বাবলম্বী করার পাশাপাশি অন্য নারীদেরও আত্মনির্ভরশীল করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ শুরু করেন। ব্লক-বাটিকের কাজ শিখে পালং বাজারে ছোট একটি দোকান চালু করেন এবং কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থী ও নারীদের প্রশিক্ষণ দিতে শুরু করেন। তার অদম্য প্রচেষ্টায় ২০২২ সালে যুব পুরস্কার ও জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ জয়িতা নির্বাচিত হন।
আরও
পলিথিনের দূষণ রোধে অনুপ্রাণিত হয়ে চলতি বছরের জানুয়ারিতে তিনি পাটের ব্যাগ তৈরি শুরু করেন। বর্তমানে তার কারখানায় ২৫ ধরনের ব্যাগ তৈরি হচ্ছে এবং এতে ২৫-৩০ জন নারী কাজ করছেন। ওমানের একটি শপিংমল থেকে পাওয়া এক লাখ পিস ব্যাগের অর্ডার তার উদ্যোক্তা জীবনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। তবে আর্থিক ও স্থান সংকটের কারণে উৎপাদন বাড়াতে কিছুটা সমস্যায় পড়ছেন তিনি এবং সরকারি সহায়তা কামনা করছেন।


তার কারখানায় কাজ করা অনেক নারী ও শিক্ষার্থী জানান, এই উদ্যোগ তাদের আয় ও আত্মনির্ভরতার পথ খুলে দিয়েছে। কেউ সংসারের খরচ চালাতে, কেউ আবার পড়ালেখার পাশাপাশি হাত খরচ মেটাতে এখানে কাজ করছেন। তারা আশা করছেন, পাটের ব্যাগ একদিন পলিথিনের ব্যবহার অনেকটাই কমিয়ে দেবে।
পরিবেশ অধিদপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসন আসমার এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে জানিয়েছেন, প্লাস্টিকের পরিবর্তে তার তৈরি ব্যাগ ব্যবহার করলে পরিবেশ রক্ষায় তা বড় ভূমিকা রাখবে। তারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, আসমার মতো নারীদের উদ্যোক্তা উন্নয়নে সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে।










