মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কুয়েতে প্রবাসী কর্মীদের জন্য শিগগিরই ফ্রিল্যান্স ভিসা ব্যবস্থা চালু হতে যাচ্ছে। নতুন এই নিয়মের আওতায় নির্দিষ্ট পরিমাণ ফি দিয়ে কোনো স্পনসর বা কফিল ছাড়াই আকামা (বসবাসের অনুমতি) লাগাতে পারবেন প্রবাসীরা। ফলে কোনো নির্দিষ্ট চাকরিদাতা বা মালিকের অধীনস্থ না হয়ে স্বাধীনভাবে কাজ করার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে যাচ্ছে প্রবাসী কর্মীদের সামনে।
কুয়েত সরকারের শ্রমবাজারকে আরও সুসংগঠিত করার বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই ফ্রিল্যান্স ভিসা সিস্টেম চালুর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। দেশটিতে কাজের ক্ষেত্রে বর্তমানে প্রায় সব প্রবাসী কর্মীকে স্থানীয় কোনো মালিক বা স্পনসরের ওপর নির্ভর করতে হয়। এই নির্ভরতার সুযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সেখানে ভিসা–বাণিজ্য এবং অবৈধ আর্থিক লেনদেনের এক অসাধু চক্র গড়ে উঠেছিল, যার কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়তেন সাধারণ শ্রমিকেরা। নতুন ব্যবস্থাটি পুরোপুরি কার্যকর হলে এসব দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার একটি স্থায়ী সমাধান হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আরও
নতুন এই ফ্রিল্যান্স ভিসায় নির্দিষ্ট মালিক ছাড়াই প্রবাসীরা স্বাধীনভাবে নিজেদের দক্ষতা অনুযায়ী কাজ করতে পারবেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে জানা গেছে, এই বিশেষ ভিসা পেতে বছরে ৭৫০ থেকে ১ হাজার কুয়েতি দিনার পর্যন্ত সরকারি ফি নির্ধারণ করা হতে পারে। আবেদনকারীদের নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে নিজেদের বর্তমান ঠিকানা, ই–মেইল ও যাবতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে আবেদন করতে হবে। আগামী দুই মাসের মধ্যেই এই যুগান্তকারী ব্যবস্থাটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হতে পারে। এটি বাস্তবায়িত হলে প্রবাসীদের আর দালালদের মাধ্যমে টাকা দিয়ে আকামা নিতে হবে না, বরং সব প্রক্রিয়া ও আর্থিক লেনদেন সরাসরি সরকারি ব্যবস্থাপনায় সম্পন্ন হবে।
কুয়েত সরকারের এমন উদ্যোগে প্রবাসী বাংলাদেশিসহ অন্যান্য দেশের কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক স্বস্তি ও আনন্দ বিরাজ করছে। প্রবাসীরা বলছেন, এটি চালু হলে দালালদের দৌরাত্ম্য পুরোপুরি বন্ধ হবে এবং তাঁরা স্বাধীন ও সম্মানজনকভাবে কাজ করার সুযোগ পাবেন। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, স্পনসর ছাড়া কাজ করার এই সুযোগ কুয়েতের শ্রমবাজারে এক বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে। সরকারি নিয়ন্ত্রণের ফলে কাজের পরিবেশ যেমন স্বচ্ছ হবে, তেমনি এটি আরও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠবে।












