মাদক পাচার ও মাদক–সংক্রান্ত অপরাধে জড়িত থাকার দায়ে কুয়েতের একটি ফৌজদারি আদালত এক বাংলাদেশিসহ তিনজন বিদেশি নাগরিককে কঠোর দণ্ড দিয়েছেন। আদালতের রায়ে দুইজন আফগান নাগরিক এবং একজন বাংলাদেশি নাগরিককে মাদক পাচারের অপরাধে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
আদালতের নথি অনুযায়ী, এক আফগান নাগরিককে মাদক নিয়ন্ত্রণ বিভাগের গোপন অভিযানে হেরোইন বিক্রির সময় হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়। অপর আফগান নাগরিককে হাওয়াল্লি এলাকা থেকে আটক করা হয়, যিনি বিপুল পরিমাণ হেরোইনসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক বহন করছিলেন। উপস্থাপিত সাক্ষ্যপ্রমাণ ও তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে আদালত উভয় আফগান নাগরিককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।
এছাড়া এক বাংলাদেশি নাগরিককে হেরোইন ও হাশিশসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক নিজের কাছে রাখা এবং পাচারের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। আদালত তাকেও একই ধরনের অপরাধের জন্য যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেন। বিচারক রায়ে উল্লেখ করেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হয়েছে।
আরও
একই দিনে আদালত আরও কয়েকটি মাদক মামলার রায় ঘোষণা করেন। এর মধ্যে এক ফিলিপাইন নাগরিককে মাদক রাখার দায়ে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মাদক নিয়ন্ত্রণ বিভাগের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া এক সরকারি কর্মচারী এবং এক চিকিৎসককে মাদক পাচার ও মাদক সেবনের অভিযোগে প্রত্যেককে ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার কুয়েতি দিনার জরিমানা করা হয়েছে।
কুয়েত কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশটিতে মাদক পাচার ও মাদক সেবনের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। জননিরাপত্তা ও সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষায় এ ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িত যেকোনো ব্যক্তি বা চক্রের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।











