যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার ঐতিহাসিক চন্দ্রাভিযান ‘আর্টেমিস-২’–এর মহাকাশযানটি পর্যবেক্ষণ করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ স্পেস অ্যান্ড অ্যাস্ট্রোনমি হাব। আজ রোববার (৫ এপ্রিল) ভোর চারটা থেকে পাঁচটার মধ্যে ঐতিহাসিক এই মুহূর্তটি রেকর্ড করা হয়। দীর্ঘ ৫৩ বছরের বেশি সময় পর নাসার এই মিশনের মাধ্যমেই আবারও চারজন নভোচারী চাঁদের উদ্দেশে যাত্রা করেছেন। সংবাদমাধ্যম খালিজ টাইমসের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
চার সদস্যের এই নভোচারী দলে রয়েছেন তিনজন মার্কিন এবং একজন কানাডীয় নাগরিক। গত ১ এপ্রিল ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে স্পেস লঞ্চ সিস্টেম বা এসএলএস রকেটে চেপে ওরিয়ন ক্যাপসুলে করে চাঁদের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন তাঁরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, নাসার এই মিশন মানবজাতির মহাকাশ ও চন্দ্রাভিযানে নতুন করে গতি সঞ্চার করবে। বিশেষ করে মহাকাশ গবেষণায় চীনের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতেই যুক্তরাষ্ট্র এই কর্মসূচিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে এগিয়ে নিচ্ছে।
১০ দিনের এই রোমাঞ্চকর অভিযানে নভোচারীরা চাঁদের কক্ষপথ প্রদক্ষিণ করে নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরে আসবেন। আশা করা হচ্ছে, এই যাত্রার মধ্য দিয়ে তাঁরা মানুষের ইতিহাসে সবচেয়ে দূরবর্তী মহাকাশ ভ্রমণের নতুন রেকর্ড গড়বেন। মূলত ভবিষ্যতে চাঁদের বুকে মানুষের স্থায়ী উপস্থিতি নিশ্চিত করার যে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা নাসার রয়েছে, ‘আর্টেমিস-২’ মিশনটি তারই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই কর্মসূচির মাধ্যমেই প্রথমবারের মতো কোনো নারী এবং অশ্বেতাঙ্গ ব্যক্তিকে চাঁদে অবতরণ করানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহে মানব অভিযানের পথও সুগম করবে বলে বিজ্ঞানীরা মনে করছেন। উল্লেখ্য, এর আগে সর্বশেষ ১৯৭২ সালে অ্যাপোলো-১৭ মিশনের মাধ্যমে মানুষ চাঁদে অবতরণ করেছিল।
আরও
মহাকাশ গবেষণায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতার অংশ হিসেবে ২০২০ সালে ‘আর্টেমিস অ্যাকর্ডস’–এ সই করে সংযুক্ত আরব আমিরাত। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে চাঁদে মানুষের টেকসই উপস্থিতি নিশ্চিত করতে বৈশ্বিক অংশীদারত্ব জোরদার করছে মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটি। আমিরাত ইতিমধ্যেই মহাকাশ গবেষণায় বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। এর আগে ২০১৯ সালে হাজ্জা আল মানসুরি প্রথম আমিরাতি নভোচারী হিসেবে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে যাত্রা করে ইতিহাস গড়েছিলেন।










