সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ছবি ও ভিডিও ধারণের অভিযোগে অন্তত ৭০ জন ব্রিটিশ নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দেশটির কঠোর জাতীয় নিরাপত্তা আইনের আওতায় এসব ব্যক্তির সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে বলে গভীর আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক দুটি মানবাধিকার সংস্থা। আজ রোববার (২৯ মার্চ) ইরানের সংবাদমাধ্যম প্রেসটিভির এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে সাধারণ পর্যটক, প্রবাসী ও উড়োজাহাজের কেবিন ক্রুরাও রয়েছেন। তাঁদের একটি ছোট কক্ষে গাদাগাদি করে আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে। এর ফলে তাঁরা ঠিকমতো ঘুম, খাবার ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা থেকে পুরোপুরি বঞ্চিত হচ্ছেন। আমিরাতের কঠোর আইন অনুযায়ী, শুধু ছবি তোলা বা ভিডিও ধারণই নয়, এমনকি কারও কাছ থেকে এসব হামলার ছবি গ্রহণ করাও বড় ধরনের অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এসব অপরাধ প্রমাণ হলে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড বা প্রায় দুই লাখ পাউন্ড পর্যন্ত জরিমানার কড়া বিধান রয়েছে।
আমিরাতের আইন অনুযায়ী, জননিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা ব্যাহত করতে পারে—এমন যেকোনো ছবি তোলা বা প্রচার করা দেশটিতে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ইরানি হামলার সময় সংশ্লিষ্ট এলাকায় অবস্থানকারীদের মুঠোফোনে আরবি ও ইংরেজিতে সতর্কবার্তা পাঠিয়ে ছবি তোলা বা শেয়ার করলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা আগেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগ উঠেছে, দেশটির পুলিশ সদস্যরা রাস্তায় উপস্থিত ব্যক্তিদের মুঠোফোন তল্লাশি করছেন এবং হামলার ছবি বা ভিডিও পেলেই তাৎক্ষণিক আটক করছেন। এমনকি হোয়াটসঅ্যাপের মতো অ্যাপে ছবি পাওয়া গেলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। মানবাধিকার সংস্থা ‘দুবাই ওয়াচ’–এর প্রতিষ্ঠাতা ডেভিড হেইগ জানিয়েছেন, শুধু দুবাইতেই অন্তত ৩৫ জন ব্রিটিশ নাগরিক আটক রয়েছেন এবং আবুধাবিতেও সমসংখ্যক ব্যক্তি আটক হতে পারেন।
আরও
আটক ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজন জামিনে মুক্তি পেলেও তাঁদের পাসপোর্ট জব্দ থাকায় তাঁরা দেশে ফিরতে পারছেন না। অনেক ক্ষেত্রে আটকের বিষয়টি ব্রিটিশ দূতাবাসকে পর্যন্ত জানানো হয়নি এবং বর্তমানে মাত্র পাঁচজন ব্রিটিশ নাগরিক কনস্যুলার সহায়তা পাচ্ছেন। মানবাধিকারকর্মী রাধা স্টার্লিং এসব ঘটনাকে ‘গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন’ হিসেবে আখ্যায়িত করে দ্রুত কূটনৈতিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে তাঁদের মুক্তির জোর দাবি জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে আমিরাতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে ইরান, যেটিকে তারা নিজেদের ‘আত্মরক্ষার অধিকার’ বলে দাবি করে আসছে।










