মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবার আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইরানের লাগাতার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে এবার দেশটির বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল-১২–এর বরাতে ইরান ইন্টারন্যাশনালের এক প্রতিবেদনে মঙ্গলবার (৩ মার্চ) এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলমান এই যুদ্ধে সংযুক্ত আরব আমিরাত সরাসরি কোনো পক্ষ না হওয়া সত্ত্বেও দেশটি ইতিমধ্যে প্রায় ৮০০টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে। আমিরাতের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র চ্যানেল-১২–কে জানিয়েছে, কোনো দেশ যুদ্ধের অংশ না হয়েও যদি ৮০০ বার হামলার শিকার হয়, তবে সেই দেশ তাদের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা নীতি পুনর্বিবেচনা করবে—এটাই স্বাভাবিক। মূলত নিজেদের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করতেই আমিরাত এখন ইরানের হামলা ঠেকাতে কঠোর সামরিক পথে হাঁটার চিন্তা করছে। তবে যুদ্ধ ঘোষণা বা সামরিক পদক্ষেপের বিষয়ে এখন পর্যন্ত সংযুক্ত আরব আমিরাত বা ইরান সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বিবৃতি দেওয়া হয়নি।
অন্যদিকে, উত্তপ্ত এই পরিস্থিতির মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ‘জিহাদ’ বা পবিত্র যুদ্ধের ডাক দিয়েছেন বিশিষ্ট শিয়া ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ কামাল আল-হায়দারি। ইরাকি সংবাদমাধ্যম শাফাক নিউজের খবরে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার তাঁর কার্যালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই আহ্বান জানানো হয়। তিনি বলেছেন, ইরানের সভ্যতা ও ধর্মীয় কর্তৃত্বকে লক্ষ্য করে যে হামলা চালানো হচ্ছে, তার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো এখন সময়ের দাবি।
আরও
আয়াতুল্লাহ আল-হায়দারি মুসলমানদের সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ইহুদি ও আমেরিকানদের অহংকারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে এবং নিজেদের ভূমি, মর্যাদা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সবাইকে প্রস্তুত থাকতে হবে। শিয়া ধর্মমত অনুযায়ী, তাঁর এই জিহাদের ডাক মূলত আত্মরক্ষামূলক। এর আগে ২০১৪ সালে জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসের বিরুদ্ধেও ইরাকের শীর্ষ শিয়া নেতা আয়াতুল্লাহ আলী আল-সিস্তানি একই ধরনের লড়াইয়ের ডাক দিয়েছিলেন, যার ফলে পরবর্তীতে ‘পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস’ (পিএমএফ) গঠিত হয়েছিল।











