পবিত্র রমজান মাসে মানুষের ধর্মীয় অনুভূতি ও দান-খয়রাতের প্রবণতাকে পুঁজি করে গড়ে ওঠা ভিক্ষাবৃত্তি রোধে সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজায় বিশেষ অভিযান শুরু করেছে পুলিশ। ‘ভিক্ষাবৃত্তি অপরাধ, দান দায়িত্ব’—এমন সময়োপযোগী স্লোগানকে সামনে রেখে এই সচেতনতামূলক কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। সমাজকে নেতিবাচক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখা এবং দায়িত্বশীলভাবে সঠিক জায়গায় দান করতে সাধারণ মানুষকে উদ্বুদ্ধ করাই এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য।

সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, শারজা পুলিশের নিরাপত্তা গণমাধ্যম বিভাগ এবং ভিক্ষাবৃত্তি দমন কমিটির যৌথ উদ্যোগে এই বিশেষ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। পুলিশ কর্তৃপক্ষের মতে, ভিক্ষাবৃত্তির মতো নেতিবাচক কর্মকাণ্ড একটি সমাজের সার্বিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। তাই এই বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে ঈদুল ফিতরের ছুটি শেষ হওয়া পর্যন্ত শারজাজুড়ে এই অভিযান ও কড়া নজরদারি অব্যাহত থাকবে।
আরও


সাধারণত পবিত্র রমজান মাসে ধর্মপ্রাণ মানুষের মধ্যে দান–খয়রাত করার প্রবণতা বহুগুণে বেড়ে যায়। আর মানুষের এই সহানুভূতি ও আবেগকে কাজে লাগিয়ে কিছু অসাধু ব্যক্তি অবৈধ উপায়ে অর্থ সংগ্রহের চেষ্টা চালায়। পুলিশ জানিয়েছে, এ সময়টাতে আবাসিক এলাকা ও বিপণিবিতানগুলোতে অনুমতিবিহীন ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতাদের উপস্থিতিও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ে। এসব অনিয়ম ও প্রতারণা নিয়ন্ত্রণে এবার আগেভাগেই পুলিশের তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নাগরিকদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে শারজা পুলিশ। আবেগতাড়িত কথাবার্তা বলে সহানুভূতি আদায়ের চেষ্টা করা কোনো ব্যক্তিকে সরাসরি অর্থ বা সাহায্য না দেওয়ার জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে বিশেষ অনুরোধ করা হয়েছে। এর পরিবর্তে সরকার অনুমোদিত বৈধ দাতব্য সংস্থা ও মানবিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমেই দান করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজায় প্রতিবছরই রমজান মাসকে কেন্দ্র করে ভিক্ষাবৃত্তি দমনে এমন কঠোর নজরদারি চালানো হয়, যার ধারাবাহিকতা এবারও বজায় থাকছে।












