বিশ্বজুড়ে মেধা, বিনিয়োগ ও উদ্ভাবন আকর্ষণে যখন দেশগুলোর মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা চলছে, তখন দুবাই নিয়েছে একটি কৌশলগত দ্বিমুখী পদক্ষেপ। করমুক্ত সুবিধার গণ্ডি ছাড়িয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত চালু করেছে দুটি পৃথক দীর্ঘমেয়াদি আবাসন ভিসা— দুবাই গোল্ডেন ভিসা এবং সদ্য ঘোষিত দুবাই ব্লু ভিসা। একটি ভিসা বিনিয়োগকারী, উদ্যোক্তা ও উচ্চমানের পেশাজীবীদের লক্ষ্য করে, অন্যটি পরিবেশ সুরক্ষা ও টেকসই উন্নয়নে অবদান রাখা ব্যক্তিদের জন্য প্রণীত।
দুবাই গোল্ডেন ভিসা তুলনামূলকভাবে পুরোনো ও বিস্তৃত পরিসরের একটি কর্মসূচি, যা আমিরাতের অর্থনৈতিক বৈচিত্র্যকরণ কৌশলের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে। এই ভিসার মাধ্যমে রিয়েল এস্টেট বিনিয়োগ বৃদ্ধি, স্টার্টআপ গড়ে তোলা এবং আন্তর্জাতিক কোম্পানির আঞ্চলিক সদর দপ্তর দুবাইয়ে স্থানান্তরের প্রবণতা জোরদার হয়েছে। ফলে বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের কাছে দুবাই একটি দীর্ঘমেয়াদি আবাস ও ব্যবসাবান্ধব গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে।
অন্যদিকে, নতুন ঘোষিত দুবাই ব্লু ভিসা আরও লক্ষ্যভিত্তিক ও কৌশলগত। এটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের ‘নেট জিরো বাই ২০৫০’ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে চালু করা হয়েছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো পরিবেশ বিজ্ঞানী, জলবায়ু গবেষক, সবুজ উদ্যোক্তা ও টেকসই উন্নয়নে কাজ করা বৈশ্বিক নেতাদের আকৃষ্ট করা, যাতে দুবাই সবুজ অর্থনীতিতে আন্তর্জাতিক নেতৃত্ব অর্জন করতে পারে।
আরও
ব্লু ভিসার ক্ষেত্রে যোগ্যতা নির্ধারণে পরিবেশ ও টেকসই উন্নয়নে বাস্তব অবদানকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। যোগ্যদের মধ্যে রয়েছেন পরিবেশবান্ধব স্টার্টআপের উদ্যোক্তা, পরিবেশ বিজ্ঞানে পিএইচডিধারী গবেষক, আন্তর্জাতিক পরিবেশবাদী সংস্থার কর্মকর্তা, টেকসই উন্নয়ন পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তি এবং বড় করপোরেশনে কার্বন নিঃসরণ কমানোর উদ্যোগে নেতৃত্ব দেওয়া নির্বাহীরা।
গোল্ডেন ভিসা কর্মসূচির আওতায় রিয়েল এস্টেট বিনিয়োগকারী, উদ্যোক্তা, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, বিজ্ঞানী, শিল্পী, ক্রীড়াবিদ ও বিশেষ প্রতিভাসম্পন্ন ব্যক্তিরা সুযোগ পাচ্ছেন। নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ন্যূনতম বিনিয়োগ বা আয়ের শর্ত পূরণ সাপেক্ষে এই ভিসা প্রদান করা হচ্ছে। দুই ধরনের ভিসা মিলিয়ে দুবাই স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে— তারা শুধু স্বল্পমেয়াদি বিনিয়োগ নয়, বরং দীর্ঘস্থায়ী মানবসম্পদ, উদ্ভাবন ও টেকসই ভবিষ্যৎ গঠনে বিশ্ব নেতৃত্ব দিতে চায়।











