নোয়াখালীর চাটখিলের প্রবাসী শফিকুল ইসলাম মানিকের অকাল মৃত্যু পরিবারসহ পুরো এলাকায় শোকের ছায়া ফেলেছে। মাত্র দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী এবং চার বছর বয়সী একমাত্র কন্যাকে রেখে পরম করুণাময় জীবনাবসান ঘটেছে তার। মঙ্গলবার বিকেলে আবুধাবি থেকে কফিনবন্দি মানিকের মরদেহ নিজ গ্রাম বানসায় পৌঁছালে এলাকাবাসী কান্নায় ভেঙে পড়েন।
পারিবারিক সূত্র জানায়, ১৭ বছর ধরে প্রবাস জীবন কাটানো মানিক সংসারের প্রধান অবলম্বন ছিলেন। দুই মাসের ছুটি শেষে ৪ নভেম্বর তিনি কর্মস্থল আবুধাবিতে ফিরে যান। ২২ নভেম্বর স্থানীয় সময় সকালের দিকে কাজে যোগ দেওয়ার সময় হঠাৎ স্ট্রোক করলে সহকর্মীরা দ্রুত হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরিবারের স্বপ্ন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এক মুহূর্তেই ধুলিস্যাৎ হয়ে যায়।
রাতের বেলায় বানসা মধ্যপাড়া বাইতুন নূর জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে জানাজা সম্পন্ন হয়। এলাকাবাসী, স্বজন, বন্ধুবান্ধবসহ শত শত মানুষ শেষবারের মতো তাকে দেখতে ভিড় করেন। জানাজার ইমাম জানান, মানিকের স্ত্রী বারবার অজ্ঞান হয়ে পড়ছিলেন, আর ছোট্ট সন্তানটি থামহীন কান্নায় ভেঙে পড়েছে। তিনি বলেন, ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় দীর্ঘদিন পরিশ্রম করেছেন মানিক, কিন্তু শেষ পর্যন্ত কফিনবন্দি হয়েই দেশে ফিরতে হলো তাকে।
আরও
মানিকের ছোট ভাই জাবেদ হোসেন জানান, পরিবারের সব দায়িত্বই মানিক পালন করতেন। তার মৃত্যু তাদের পুরো পরিবারকে বিপর্যস্ত করে ফেলেছে। আত্মীয়-স্বজনরা বলেন, হাসিখুশি ও ভদ্র আচরণের জন্য মানিক সবার প্রিয় ছিলেন। তার চলে যাওয়া পুরো গ্রামবাসীকে ব্যথিত করেছে।
চাটখিল উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মিজানুর রহমান বলেন, প্রবাসে কঠোর পরিশ্রম করে ভাগ্য গড়ার স্বপ্ন নিয়ে যাওয়া মানুষের এমন আকস্মিক মৃত্যু অত্যন্ত বেদনাদায়ক। তার মৃত্যুতে এলাকায় গভীর শোকের আবহ নেমে এসেছে, মানুষ অশ্রুসিক্ত নয়নে তাকে শেষ বিদায় জানিয়েছে।












