সংযুক্ত আরব আমিরাত উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন করেছে স্বাধীনতার ৫৪তম বার্ষিকী। জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন, আলোকসজ্জা ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে গোটা দেশজুড়ে ছিল উৎসবের আমেজ। দিবসটি উপলক্ষে সরকার চার দিনের সাপ্তাহিক ছুটি ঘোষণা করে। একই সঙ্গে ক্ষমার অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন কারাগার থেকে ৬ হাজার ৫৩৬ বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হয়, যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বাংলাদেশি প্রবাসী রয়েছেন।
মঙ্গলবার ‘ঈদ–উল–ইত্তেহাদ’ হিসেবে পালন করা এই দিবসকে কেন্দ্র করে রাজধানী আবুধাবি থেকে দুবাই, শারজাহ, রাস আল খাইমাহ—সব আমিরাতেই ছিল ঝলমলে আলোকসজ্জা। রাতে প্রধান সড়কগুলোতে জাতীয় পতাকা, রঙিন ব্যানার, ‘ফিফটি–ফোর’ অক্ষরে আলোকিত প্রতীক, ওয়াটার শো, এয়ার শো, আতশবাজি ও মোটর র্যালিতে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে পুরো দেশ। স্কুল–কলেজ, শপিং মল, সুপার মার্কেট এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোও আলাদা সাজে সেজে ওঠে।
জাতীয় দিবস উপলক্ষে বন্দিমুক্তির তালিকায় আবুধাবিতে ২৯৩৭, দুবাইয়ে ২০২৫, শারজাহে ৩৬৬, আজমানে ২২৫, ফুজাইরাহে ১২৯ ও রাস আল খাইমাহে ৮৫৪ জন বন্দিকে মুক্ত করা হয়। এ ছাড়া বিভিন্ন প্রদেশে ট্রাফিক জরিমানা মওকুফ, ফ্রি গাড়ি পার্কিং সুবিধা এবং টেলিকম অপারেটরদের মোবাইল ডেটা উপহারসহ বহুবিধ সুবিধা ঘোষণা করা হয়েছে।
আরও
পারস্য উপসাগরের দক্ষিণ–পূর্বে অবস্থিত সাত আমিরাত—আবুধাবি, দুবাই, শারজাহ, আজমান, উম্মুল কুয়াইন, ফুজাইরা ও রাস আল খাইমাহ—নিয়ে গঠিত সংযুক্ত আরব আমিরাত ১৯৭১ সালের ২ ডিসেম্বর রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। মাত্র পাঁচ দশকেই দেশটি দারিদ্র্যের সীমা অতিক্রম করে বিশ্বের অন্যতম সমৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। তেল আবিষ্কারের পর ১৯৬০-এর দশক থেকে আমিরাতের দৃশ্যমান অর্থনৈতিক রূপান্তর শুরু হয় এবং দ্রুত বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র হয়ে ওঠে।
দুবাই বর্তমানে পর্যটন, আর্থিক খাত ও খুচরা বাণিজ্যের বৈশ্বিক হাব হিসেবে পরিচিত। আবুধাবি আবার বিশ্বের ধনী শহরগুলোর তালিকায় শীর্ষে অবস্থান করছে। আমিরাতের রাষ্ট্রগঠনে নেতৃত্বদানকারী শেখ জায়েদ বিন সুলতান আল নাহিয়ানকে জাতির পিতা হিসেবে সম্মান করা হয়। তার মৃত্যুর পর বর্তমানে তাঁর পুত্র শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান দেশটির প্রেসিডেন্ট। অন্যদিকে দুবাইয়ের শাসক শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুম প্রধানমন্ত্রী ও সহ-রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন।












